ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জন্মবার্ষিকী সংখ্যা-২০২৬

আবু আফজাল সালেহর ছড়া: সমাজ, প্রকৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধন

  • বাংলাবাঁক
  • আপডেট : ১১:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • 72
আবু আফজাল সালেহর ছড়া: সমাজ, প্রকৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধন
বাংলাবাঁক ডেস্ক
সমকালীন বাংলা শিশুসাহিত্যে ও ছড়াসাহিত্যে আবু আফজাল সালেহ (জন্ম: ১৫ অক্টোবর, ১৯৮১) একটি সুপরিচিত নাম। তিনি মূলত কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট হলেও ছড়া রচনায় তাঁর নিজস্ব এক স্বকীয় ধারা তৈরি করেছেন। তাঁর রচিত ছড়াসাহিত্য যেমন শিশুদের মনে আনন্দের খোরাক জোগায়, তেমনি সহজ-সরল শব্দের বুননে প্রকৃতি, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বিভিন্ন লোকজ উৎসবকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। তাঁর ছড়ার জগৎজুড়ে রয়েছে এক স্নিগ্ধ, নির্মল ও শিক্ষণীয় আবহ।
ছড়ার বিষয়বৈচিত্র্য ও উৎসবের রঙ:
আবু আফজাল সালেহর ছড়াসাহিত্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিষয়বৈচিত্র্য। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই ‘ছড়ায় ছড়ায় উৎসব’ (২০১৮)। তাঁর ছড়ায় বাঙালির বারো মাসের তেরো পার্বণ, ঈদ, পূজা, নববর্ষ এবং বিভিন্ন সামাজিক উৎসবের আনন্দ-উচ্ছ্বাস দারুণভাবে বাঙ্ময় হয়ে ওঠে। ছড়ার মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের আবহমান সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরছেন। সহজ ছন্দ ও অন্ত্যমিলের কারণে তাঁর ছড়াগুলো সহজেই পাঠককে আকৃষ্ট করে।
প্রকৃতি ও ঋতুবৈচিত্র্যের রূপায়ণ:
প্রকৃতিপ্রেম আবু আফজাল সালেহর লেখার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের চিত্র তিনি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তা ছড়ার পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে সাজিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তাঁর ‘বর্ষাকাল’ ছড়ায় তিনি লিখেছেন:
“বর্ষাকাল সাদা মেঘের ওড়াউড়ি
বর্ষাসুরে ইচ্ছে রাঙে আষাঢ় মাসে
বৃষ্টি পড়ে মুষলধারে কলকলিয়ে
বৃষ্টি পড়ে সবুজ পাতায়…”
এই সরল প্রকাশভঙ্গি গ্রামীণ রূপসী বাংলার বর্ষার এক জীবন্ত ছবি চোখের সামনে ফুটিয়ে তোলে, যা শিশুর মনস্তত্ত্বে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে।
শিশুমনস্তত্ত্ব ও সহজ ভাষাভঙ্গি:
শিশুতোষ ছড়া রচনায় আবু আফজাল সালেহ অত্যন্ত কুশলী। তিনি জানেন শিশুরা কী ধরনের শব্দ বা ছন্দে আনন্দ পায়। জটিল কোনো রূপক ব্যবহার না করে তিনি চিরচেনা চারপাশ, ফুল-পাখি, জোনাকি, মেঘ আর বৃষ্টির গল্প বলেন। তাঁর ছড়ার ছন্দ সাবলীল, যা আবৃত্তির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। শিশুদের কল্পনার রাজ্যকে রঙিন করে তুলতে তিনি শব্দ দিয়ে নিখুঁত আলপনা আঁকেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মূল্যবোধ:
আবু আফজাল সালেহর ছড়া কেবল নিছক বিনোদনের মাধ্যম নয়, এর অন্তরালে একটি সূক্ষ্ম শিক্ষণীয় বার্তা বা মূল্যবোধের ছোঁয়া থাকে। দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং নৈতিক শিক্ষার এক মেলবন্ধন তাঁর শিশুতোষ রচনায় লক্ষ্য করা যায়। নতুন প্রজন্ম যাতে শেকড়চ্যুত না হয়, সেই সচেতনতা তাঁর ছড়াশিল্পের অন্যতম শক্তি।
আবু আফজাল সালেহর ছড়া বাংলা শিশুসাহিত্যের এক উর্বর উপাদান। তিনি তাঁর সহজ-সরল ভাষা ও ললিত ছন্দের মাধ্যমে শিশুদের যেমন আনন্দ দেন, তেমনি প্রবীণ পাঠকদের ফিরিয়ে নিয়ে যান শৈশবের নস্টালজিয়ায়। প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও আধুনিক মননের এই রূপকার তাঁর অনন্য সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা ছড়াসাহিত্যে নিজের স্থানটি ক্রমাগত সমৃদ্ধ করে চলেছেন।
জনপ্রিয় পোস্ট

আবু আফজাল সালেহর ছড়া: সমাজ, প্রকৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধন

জন্মবার্ষিকী সংখ্যা-২০২৬

আবু আফজাল সালেহর ছড়া: সমাজ, প্রকৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধন

আপডেট : ১১:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
আবু আফজাল সালেহর ছড়া: সমাজ, প্রকৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধন
বাংলাবাঁক ডেস্ক
সমকালীন বাংলা শিশুসাহিত্যে ও ছড়াসাহিত্যে আবু আফজাল সালেহ (জন্ম: ১৫ অক্টোবর, ১৯৮১) একটি সুপরিচিত নাম। তিনি মূলত কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট হলেও ছড়া রচনায় তাঁর নিজস্ব এক স্বকীয় ধারা তৈরি করেছেন। তাঁর রচিত ছড়াসাহিত্য যেমন শিশুদের মনে আনন্দের খোরাক জোগায়, তেমনি সহজ-সরল শব্দের বুননে প্রকৃতি, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বিভিন্ন লোকজ উৎসবকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। তাঁর ছড়ার জগৎজুড়ে রয়েছে এক স্নিগ্ধ, নির্মল ও শিক্ষণীয় আবহ।
ছড়ার বিষয়বৈচিত্র্য ও উৎসবের রঙ:
আবু আফজাল সালেহর ছড়াসাহিত্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিষয়বৈচিত্র্য। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই ‘ছড়ায় ছড়ায় উৎসব’ (২০১৮)। তাঁর ছড়ায় বাঙালির বারো মাসের তেরো পার্বণ, ঈদ, পূজা, নববর্ষ এবং বিভিন্ন সামাজিক উৎসবের আনন্দ-উচ্ছ্বাস দারুণভাবে বাঙ্ময় হয়ে ওঠে। ছড়ার মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের আবহমান সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরছেন। সহজ ছন্দ ও অন্ত্যমিলের কারণে তাঁর ছড়াগুলো সহজেই পাঠককে আকৃষ্ট করে।
প্রকৃতি ও ঋতুবৈচিত্র্যের রূপায়ণ:
প্রকৃতিপ্রেম আবু আফজাল সালেহর লেখার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের চিত্র তিনি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তা ছড়ার পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে সাজিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তাঁর ‘বর্ষাকাল’ ছড়ায় তিনি লিখেছেন:
“বর্ষাকাল সাদা মেঘের ওড়াউড়ি
বর্ষাসুরে ইচ্ছে রাঙে আষাঢ় মাসে
বৃষ্টি পড়ে মুষলধারে কলকলিয়ে
বৃষ্টি পড়ে সবুজ পাতায়…”
এই সরল প্রকাশভঙ্গি গ্রামীণ রূপসী বাংলার বর্ষার এক জীবন্ত ছবি চোখের সামনে ফুটিয়ে তোলে, যা শিশুর মনস্তত্ত্বে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে।
শিশুমনস্তত্ত্ব ও সহজ ভাষাভঙ্গি:
শিশুতোষ ছড়া রচনায় আবু আফজাল সালেহ অত্যন্ত কুশলী। তিনি জানেন শিশুরা কী ধরনের শব্দ বা ছন্দে আনন্দ পায়। জটিল কোনো রূপক ব্যবহার না করে তিনি চিরচেনা চারপাশ, ফুল-পাখি, জোনাকি, মেঘ আর বৃষ্টির গল্প বলেন। তাঁর ছড়ার ছন্দ সাবলীল, যা আবৃত্তির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। শিশুদের কল্পনার রাজ্যকে রঙিন করে তুলতে তিনি শব্দ দিয়ে নিখুঁত আলপনা আঁকেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মূল্যবোধ:
আবু আফজাল সালেহর ছড়া কেবল নিছক বিনোদনের মাধ্যম নয়, এর অন্তরালে একটি সূক্ষ্ম শিক্ষণীয় বার্তা বা মূল্যবোধের ছোঁয়া থাকে। দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং নৈতিক শিক্ষার এক মেলবন্ধন তাঁর শিশুতোষ রচনায় লক্ষ্য করা যায়। নতুন প্রজন্ম যাতে শেকড়চ্যুত না হয়, সেই সচেতনতা তাঁর ছড়াশিল্পের অন্যতম শক্তি।
আবু আফজাল সালেহর ছড়া বাংলা শিশুসাহিত্যের এক উর্বর উপাদান। তিনি তাঁর সহজ-সরল ভাষা ও ললিত ছন্দের মাধ্যমে শিশুদের যেমন আনন্দ দেন, তেমনি প্রবীণ পাঠকদের ফিরিয়ে নিয়ে যান শৈশবের নস্টালজিয়ায়। প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও আধুনিক মননের এই রূপকার তাঁর অনন্য সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা ছড়াসাহিত্যে নিজের স্থানটি ক্রমাগত সমৃদ্ধ করে চলেছেন।