ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জন্মবার্ষিকী সংখ্যা-২০২৬

আবু আফজাল সালেহ: তথ্যের গহীনে মননশীলতার মেলবন্ধন

  • বাংলাবাঁক
  • আপডেট : ০৮:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • 81
আবু আফজাল সালেহ: তথ্যের গহীনে মননশীলতার মেলবন্ধন
বাংলাবাঁক ডেস্ক
সমকালীন বাংলা সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের আঙিনায় আবু আফজাল সালেহ এক পরিচিত নাম। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক এবং কলামিস্ট হলেও ফিচার লেখক হিসেবে তাঁর অবদান অনন্য । ফিচার মূলত একটি সৃজনশীল গদ্যরীতি, যেখানে খটখটে সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন, ইতিহাস, ঐতিহ্য কিংবা কোনো জনপদের বাস্তব চিত্রকে রূপক ও সাবলীল ভাষায় ফুটিয়ে তোলা হয়। আবু আফজাল সালেহ এই শিল্পটিকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ধারণ করেছেন।
ফিচার লেখক হিসেবে আবু আফজাল সালেহের প্রধান শক্তি হলো তাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও ভ্রমণলব্ধ অভিজ্ঞতা। । উদাহরণস্বরূপ, তাঁর “হাওর ঘুরে এসে…” শিরোনামের ফিচারটিতে টাঙ্গুয়ার হাওরের অপরূপ রূপ এবং সুনামগঞ্জের আঞ্চলিক লোক-ঐতিহ্যের যে আবহ তিনি তৈরি করেছেন, তা শুধু একটি ভ্রমণকাহিনী নয়; বরং একটি জনপদের জীবন্ত দলিল কালের কণ্ঠ।
তাঁর ফিচারের কিছু অন্যতম বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
  • বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা: একজন ভালো ফিচার লেখকের প্রধান শর্ত হলো তথ্যের সত্যতা বজায় রাখা। সমালোচকদের মতে, আবু আফজাল সালেহ তাঁর লেখায় কোনো অন্ধভক্তি বা বিদ্বেষের আশ্রয় নেন না। তিনি মুক্তমনের অধিকারী, যা তাঁর ফিচারগুলোকে একপেশে হতে দেয় না।
  • কাব্যিক ও সাবলীল ভাষা: যেহেতু তিনি একজন কবি, তাই তাঁর গদ্যেও এক ধরনের অন্তর্নিহিত ছন্দ ও চমৎকারিত্ব থাকে । সাধারণ পাঠককেও তিনি তাঁর বর্ণনার জাদুতে লেখার গভীরে টেনে নিয়ে যেতে পারেন।
  • সমাজ ও লোক-সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা: গ্রামীণ জনপদ, সাধারণ মানুষের টানাপোড়েন, লোকজ উৎসব এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো তাঁর লেখার মূল উপজীব্য।
আবু আফজাল সালেহ কেবল তথ্য পরিবেশনকারী ফিচার লেখক নন, তিনি একজন মননশীল রসগ্রাহী লেখক। যেখানেই তিনি যান বা যা নিয়েই তিনি লেখেন, সেখানে তিনি নিজের একটি নিজস্ব ছাপ রেখে যান। তাঁর এই শৈল্পিক গদ্যরীতি বাংলা ফিচার সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
জনপ্রিয় পোস্ট

আবু আফজাল সালেহর ছড়া: সমাজ, প্রকৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধন

জন্মবার্ষিকী সংখ্যা-২০২৬

আবু আফজাল সালেহ: তথ্যের গহীনে মননশীলতার মেলবন্ধন

আপডেট : ০৮:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আবু আফজাল সালেহ: তথ্যের গহীনে মননশীলতার মেলবন্ধন
বাংলাবাঁক ডেস্ক
সমকালীন বাংলা সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের আঙিনায় আবু আফজাল সালেহ এক পরিচিত নাম। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক এবং কলামিস্ট হলেও ফিচার লেখক হিসেবে তাঁর অবদান অনন্য । ফিচার মূলত একটি সৃজনশীল গদ্যরীতি, যেখানে খটখটে সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন, ইতিহাস, ঐতিহ্য কিংবা কোনো জনপদের বাস্তব চিত্রকে রূপক ও সাবলীল ভাষায় ফুটিয়ে তোলা হয়। আবু আফজাল সালেহ এই শিল্পটিকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ধারণ করেছেন।
ফিচার লেখক হিসেবে আবু আফজাল সালেহের প্রধান শক্তি হলো তাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও ভ্রমণলব্ধ অভিজ্ঞতা। । উদাহরণস্বরূপ, তাঁর “হাওর ঘুরে এসে…” শিরোনামের ফিচারটিতে টাঙ্গুয়ার হাওরের অপরূপ রূপ এবং সুনামগঞ্জের আঞ্চলিক লোক-ঐতিহ্যের যে আবহ তিনি তৈরি করেছেন, তা শুধু একটি ভ্রমণকাহিনী নয়; বরং একটি জনপদের জীবন্ত দলিল কালের কণ্ঠ।
তাঁর ফিচারের কিছু অন্যতম বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
  • বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা: একজন ভালো ফিচার লেখকের প্রধান শর্ত হলো তথ্যের সত্যতা বজায় রাখা। সমালোচকদের মতে, আবু আফজাল সালেহ তাঁর লেখায় কোনো অন্ধভক্তি বা বিদ্বেষের আশ্রয় নেন না। তিনি মুক্তমনের অধিকারী, যা তাঁর ফিচারগুলোকে একপেশে হতে দেয় না।
  • কাব্যিক ও সাবলীল ভাষা: যেহেতু তিনি একজন কবি, তাই তাঁর গদ্যেও এক ধরনের অন্তর্নিহিত ছন্দ ও চমৎকারিত্ব থাকে । সাধারণ পাঠককেও তিনি তাঁর বর্ণনার জাদুতে লেখার গভীরে টেনে নিয়ে যেতে পারেন।
  • সমাজ ও লোক-সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা: গ্রামীণ জনপদ, সাধারণ মানুষের টানাপোড়েন, লোকজ উৎসব এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো তাঁর লেখার মূল উপজীব্য।
আবু আফজাল সালেহ কেবল তথ্য পরিবেশনকারী ফিচার লেখক নন, তিনি একজন মননশীল রসগ্রাহী লেখক। যেখানেই তিনি যান বা যা নিয়েই তিনি লেখেন, সেখানে তিনি নিজের একটি নিজস্ব ছাপ রেখে যান। তাঁর এই শৈল্পিক গদ্যরীতি বাংলা ফিচার সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।