দৈনিক প্রথম আলো এবং আবু আফজাল সালেহ
বাংলাবাঁক ডেস্ক
কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট এবং অপেশাদার আলোকচিত্রী আবু আফজাল সালেহ সমকালীন বাংলা সাহিত্য ও সৃষ্টিশীল মাধ্যমে এক পরিচিত নাম. দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাহিত্য পোর্টালে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি রয়েছে, যার মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম আলো অন্যতম। প্রথম আলোর মূল পাতা ও নাগরিক সংবাদসহ বিভিন্ন বিভাগে তাঁর লেখা কবিতা, প্রবন্ধ এবং তাঁর ক্যামেরায় তোলা ছবি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়ে পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে।
১. কবিতা ভাবনা: প্রকৃতি, প্রেম ও জীবনের বহুমাত্রিকতা
আবু আফজাল সালেহর সাহিত্যিক সত্তার অন্যতম প্রধান পরিচয় তিনি একজন সংবেদনশীল কবি। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘বারবার ফিরে আসি’ (২০১৮) এবং ‘বলেই ফেলি ভালোবাসি’ (২০২২) উল্লেখযোগ্য। প্রথম আলো ও অন্যান্য সাহিত্য মাধ্যমে তাঁর কবিতা নিয়ে আলোচনায় সমালোচকরা তাঁকে “নিজস্বতা ও আপন আলোয় উদ্ভাসিত লেখক” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সহজ-সরল ও সাবলীল ভাষা: সমকালীন জটিল ও দুর্বোধ্য কবিতার বিপরীতে আবু আফজাল সালেহর কবিতার ভাষা অত্যন্ত সহজ, সাবলীল এবং প্রাণবন্ত। সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক আবেগ, প্রেম ও যন্ত্রণাকে তিনি জটিল কোনো রূপক ছাড়াই পাঠকের সামনে মেলে ধরেন।
- প্রকৃতি ও মৃত্তিকার টান: তাঁর কবিতায় প্রকৃতি এক বিশাল স্থান দখল করে আছে। নাগরিক জীবনের ক্লান্তি মুছে তিনি বারবার ফিরে যেতে চান সবুজে এবং চেনা মৃত্তিকায়। সাদা মেঘ, ঈগলের ডানা, কিংবা আকাশজুড়ে থাকা রংধনুর মতো অনুষঙ্গ তাঁর কবিতাকে নান্দনিক করে তোলে।
- দার্শনিক দৃষ্টি ও সত্যের প্রকাশ: কবি কেবল রোমান্টিক আবেগে ভেসে যান না, বরং স্থান-কাল-পাত্রভেদে বাস্তবতাকে নির্মমভাবে উপস্থাপন করেন। তাঁর কবিতায় মানব মনের মনস্তত্ত্ব, সুখের প্রাসাদের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা বিপদ কিংবা মানুষের অহংবোধের মতো বিষয়গুলো খুব সূক্ষ্মভাবে উঠে আসে।
২. আলোকচিত্র (ছবি): লেন্সের চোখে অপরূপ বাংলাদেশ
আবু আফজাল সালেহ শুধু কলম দিয়েই নয়, ক্যামেরার লেন্স দিয়েও প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং বাস্তবতার ছবি ফুটিয়ে তোলেন। প্রথম আলোর নাগরিক সংবাদ বিভাগে তাঁর তোলা নান্দনিক আলোকচিত্র নিয়মিত স্থান পায়।
- প্রকৃতির মুগ্ধতা ও মিতালি: তাঁর তোলা আলোকচিত্রে বাংলাদেশের পাহাড়ি ও নদীমাতৃক অঞ্চলের অপরূপ রূপ প্রকাশ পায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম আলোতে প্রকাশিত তাঁর একটি আলোকচিত্রে বান্দরবানের থানছির সাঙ্গু নদ দিয়ে রেমাক্রি ফলস যাওয়ার পথের শরৎকালীন সৌন্দর্য ধরা পড়েছে। যেখানে জল, পাথর আর সবুজের মিতালি এক অনিন্দ্য রূপ ধারণ করেছে।
- জীবনমুখী ফ্রেম: তাঁর ছবির মূল শক্তির জায়গা হলো প্রকৃতির স্বাভাবিকতাকে কোনো কৃত্রিমতা ছাড়া ফ্রেমবন্দি করা। নদী, পাহাড় আর মেঘের অনন্য সমন্বয়কে তিনি যেভাবে ক্যামেরায় ধারণ করেন, তা তাঁর গভীর নান্দনিক বোধেরই প্রমাণ দেয়।
৩. প্রবন্ধ ও কলাম: সমাজবাস্তবতা ও মননশীলতার দলিল
আবু আফজাল সালেহ একজন সচেতন প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তাঁর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।
- রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা: তাঁর প্রবন্ধগুলোতে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। যেমন, তাঁর ‘স্বাধীনতার প্রেক্ষিতে আমাদের রাজনৈতিক চাওয়া’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি স্বাধীনতার মূল চেতনা, নিজস্ব ঐতিহ্য রক্ষা এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের দাবিকে তাত্ত্বিকভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
- সাহিত্য সমালোচনা: সৃজনশীল লেখার পাশাপাশি তিনি সমকালীন অন্যান্য লেখকদের সাহিত্য নিয়েও মননশীল সমালোচনা ও আলোচনা লিখে থাকেন। সমাজবাস্তবতার নিরিখে গল্প বা উপন্যাসের ব্যবচ্ছেদ করতে তাঁর প্রাবন্ধিক সত্তা বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
প্রথম আলো সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত আবু আফজাল সালেহর ত্রিমাত্রিক কাজ—কবিতা, ছবি ও প্রবন্ধ—পরস্পরের পরিপূরক। তাঁর কবিতা যা শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করে, তাঁর আলোকচিত্র ঠিক তা-ই ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান রূপ দেয়; আর তাঁর প্রবন্ধ সেই ভাবনার পেছনে একটি যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরি করে। পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (BRDB) উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাহিত্যের এই বহুমাত্রিক শাখায় তাঁর বিচরণ সত্যিই প্রশংসনীয়।
বাংলাবাঁক 