ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নতুন দিনের কবিতা

দ্বীপ সরকার : কবিতায় দারুচিনির ইশারা  

  • বাংলাবাঁক
  • আপডেট : ০৯:২৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪
  • 313

Exif_JPEG_420



আবু আফজাল সালেহ




বগুড়ার কবি দ্বীপ সরকার। পুরোনাম সরকার শহিদুর রহমান। ১৯৮১ সালের ১ মার্চ তিনি শাহজানপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ‘ভিন্ন ভাষার গোলাপজল’ ও ‘ফিনিক্স পাখির ডানা’ অন্যতম দুটি কবিতার বই। মাসিক ‘কুয়াশা’ লিটলম্যাগের সম্পাদক তিনি।


‘নির্জনতার বাঁকে কিছু অন্ধকার ঘাপটি মেরে আছে জেনেও আমি ছুটছি সিধে পথে,
একটু নিরোপেক্ষ হতে শেখো (সাউন্ড অব স্কাই), এসো প্রকৃতি চেনার গল্প বলি – প্রকৃতি চিনলে মানুষ চেনা যায় (থিসিস), চোরাবালি কান্না (মানচিত্র ঘুমালে) ইত্যাদি বক্তব্যের মাধ্যমে চেনা-পৃথিবীর অন্ধকার ও হতাশাজনক অধ্যায়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়। আধুনিক যুগে হতাশা, অপুর্ণতা থাকবেই। দ্বীপ সরকারের কবিতাতেও এ প্রবণতা রয়েছে। আরও কিছু উদাহরণ–

(১) মন বলে ফিরে আসুক—আমি বলি না আসলেই ভালো;
চোখ বলে ফিরুক—আমি বলি অন্য কথা
সে ফিরুক অথবা না ফিরুক সে কাঁদুক অথবা না কাঁদুক
[দ্বিচারিতা]

(২) বদলী বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে মনকথা উল্লেখ নেই।
বদলী হতে হতে একদিন প্রতিবাদী দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে মনগাছ।
[মনগাছ]

(৩) একটা গভীরতা ছুঁয়েই দুঃখসমূহ বুদবুদ করে–

…তবে উনুনে চসা তহমিনা খাতুন উত্তর দিয়েছিলেন

“পাখিরা যেমন বনে সুন্দর – কষ্টেরা বুদবুদে

[বুদবুদ]

(৪) দয়িতার নাটকে ধর্মের জয় দেখে অধর্মের চোরাবালি কান্না,।
…এমনটাই ভাবি এখন। মানচিত্র ঘুমালে
এমন ভয়াল বেড়াল ঝাঁপিয়ে পড়ে কিনা।
একাত্তরে যেমন মানচিত্রকে ঘুমাতে দেয়নি কেউ কেউ….

[মানচিত্র ঘুমালে]


কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে জানতে হলে কৃষকের কাছে যেতে হবে। ধান প্রতীকী হিসাবে ববহার করা হয়েছে–

কাউনের ফুল থেকেও ভাতের ঘ্রাণ পাও
ধানফুল থেকেও পাও
জীবনের ঘ্রাণ ওখানেই।
…
জীবন জীবন খেললে ভোরের মাঠে আসী
ধানের কাছে খেলা শিখি—ধান খেলা শেখায়
ভাতকুমারিদের চেখে চেখে মাঠে শক্তি বাড়াই
[ভাতকুমারি]


গদ্যকবিতার ক্ষেত্রেও তিনি বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।  দুটি উদাহরণ।

(১) শুক্রবার আসলে পত্রিকার সাহিত্যপাতাগুলো ঝকমকি আলো ছড়ায়। ভাঁজ খসালে কবিতার পা
আস্তে আস্তে পৃথিবী দেখে–যেমন পৃথিবী দেখে ভূমিষ্টরত সন্তান।
[শুক্রবার]

(২) মেঘের ডিঙি সাঁতরাচ্ছে আকাশে–বেহিসেবি
শাঁই শাঁই কাশফুল। উজান দিকের লিপিস্টিক
পড়ুয়া হাওয়া–চুম্বন নেয়া শেষে ফেএ
গাভিন হওয়ার গল্প; গাভিন দুপুর, গাভিন ভোর
[শরৎ ও হিমাংশু সরকার]


চিত্র, উপমা বা চিত্রকল্পের ব্যবহারে বেশ ভালো দক্ষতা দেখিয়েছেন। আগুণের ছুরি, মেঘের ডিঙি সাঁতরাচ্ছে আকাশ, বাঁধাকপির খোপে পড়ে আছে সরল কুয়াশা,
মৌনতাকে ছিঁড়ে আঁকড়ে ধরে আছে হিমবাতাস, নাভীর নীচে লম্বাটে খেকশিয়ালের মোচ, বাদাম চেরা স্তন, চিত্রানদীর জোসনা ইত্যাদি উপমা, শব্দব্যবহার (ক্ষেত্রমতে চিত্রকল্প-নির্মাণ) আমার কথার সপক্ষে প্রমাণ দেওয়ার জন্য নমুনা বলেই মনে করি।  এসবের ক্ষেত্রে নতুন নতুন রুচিকর অবস্থাও উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করি।  যেমন—

টেবিলের ড্রয়ার খুললে প্যারাসিটামল  হেসে উঠে বলে, ‘আমাকে খাও’।
আমি খাই। আমি মূলত প্যারাসিটামল খাইনা—খাই তার হাসি।
এভাবে কয়েকদিন খেতে খেতে আমার রোগ সেরে গেলো।
ড. বললেন, ঔষধের চেয়ে হাসিতেই রোগ সারে বেশি।
[হাসি]

 

খোঁপায় তোর /হলুদ গাঁদা,/ চোখে প্রেমের/ হাসি

এই বসন্তে /নতুন করে/ তোরেই ভালো/বাসি

নতুন করে/ মনের কোণে,/আলগা হাওয়ার/ ছই

প্রেমিক জানে,/ হলদে দুপুর/ হলদে প্রেমিক/ সই

নদীর জলে/ আছড়ে পড়ে/ মনকথাদের/ দোল

গানের সাথে/ পিছলে পড়ে/ ‘ভালোবাসি’/ বোল

নদীর ধারে/ গেওড়া গাঁয়ে/ শিমুল বনের/ মেলা

আমের মোলে/ রোদপরীর/ করছে হাওয়ায়/ খেলা

এই যে ফাগুন,/ এই বসন্ত/ কেমনে বলো/ চিনি

ফুলের ঋণে/ হাত পেতেছে/ আমার বউ/ মিনি

[বসন্ত ও আমার বউ মিনি]

–এটি খুব একটা কবিতা হয়ে উঠেনি। বহমুখিনতা নেই বলে। প্রেমিকা বা বউয়ের বাইরে যেতে পারেননি কবি। বরং এটাকে ভালো পদ্য বলা যেতে পারে।  ৯ম পঙক্তির প্রথম পর্বে এক মাত্রা বেশি হয়েছে। ১০ ছত্রের কবিতা। মাত্রাসংখ্যা ৫+৫+৫+২। প্রতি পঙক্তির শেষ পর্ব অপূর্ণ পর্ব। কবিতা না-হয়ে ওঠার সংখ্যা কম। কবির প্রচুর সার্থক ও ভালো কবিতা রয়েছে। অন্ত্যমিলের বলে আলোচনায় তুলে এনেছি। ছন্দমাত্রা খুঁজে মিলাতে কষ্ট হচ্ছে। মাত্রাবৃত্ত বা অক্ষরবৃত্ত কোনো ছন্দে পরিপূর্ণতা দেওয়া যাচ্ছে না।


সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বলতে পারি, ছোটখাটো কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি বাদে বর্তমান সময়ের তুলনায় দ্বীপ সরকারের ‘’জখমগুচ্ছ’’ মোটামুটি ভালো একটি কাব্যগ্রন্থ। অলংকার, ভাব, ও বহুমুখীনতার জন্য কবিতাগুলোর বেশিরভাগ সুখপাঠ্য হয়েছে। সৌন্দর্য এবং সুন্দর চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে। মানুষ ও মানবতার কথা ফুটে উঠেছে। বেশিরভাগ কবিতা বহুমাত্রিকতা পেয়েছে। প্রেম, হতাশা, হাহাকারের বেদনা, অপ্রাপ্তির পাশাপাশি প্রাপ্তির বার্তাও আছে। নাগরিকযন্ত্রণা রয়েছে, রয়েছে মজলুমের অসহায়ত্বের বিষয়াদি। চিত্রকল্প, চিত্র ও অলংকার নির্মাণে দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে, তাঁর এ কাব্যগ্রন্থটির কবিতা আলোচনার যোগ্য মনে হয়েছে। সময়ের গতিতে কবি আরও শাণিত হচ্ছেন, ভবিষ্যতে আরও পরিপক্ক হবেন।  ছোট্ট করে বলতে পারি, বাংলা কবিতায় তিনি স্থান পেতে যাচ্ছেন।

লেখক  : কবি  প্রাবন্ধিক

জনপ্রিয় পোস্ট

আবু আফজাল সালেহর ছড়া: সমাজ, প্রকৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধন

নতুন দিনের কবিতা

দ্বীপ সরকার : কবিতায় দারুচিনির ইশারা  

আপডেট : ০৯:২৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪


আবু আফজাল সালেহ




বগুড়ার কবি দ্বীপ সরকার। পুরোনাম সরকার শহিদুর রহমান। ১৯৮১ সালের ১ মার্চ তিনি শাহজানপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ‘ভিন্ন ভাষার গোলাপজল’ ও ‘ফিনিক্স পাখির ডানা’ অন্যতম দুটি কবিতার বই। মাসিক ‘কুয়াশা’ লিটলম্যাগের সম্পাদক তিনি।


‘নির্জনতার বাঁকে কিছু অন্ধকার ঘাপটি মেরে আছে জেনেও আমি ছুটছি সিধে পথে,
একটু নিরোপেক্ষ হতে শেখো (সাউন্ড অব স্কাই), এসো প্রকৃতি চেনার গল্প বলি – প্রকৃতি চিনলে মানুষ চেনা যায় (থিসিস), চোরাবালি কান্না (মানচিত্র ঘুমালে) ইত্যাদি বক্তব্যের মাধ্যমে চেনা-পৃথিবীর অন্ধকার ও হতাশাজনক অধ্যায়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়। আধুনিক যুগে হতাশা, অপুর্ণতা থাকবেই। দ্বীপ সরকারের কবিতাতেও এ প্রবণতা রয়েছে। আরও কিছু উদাহরণ–

(১) মন বলে ফিরে আসুক—আমি বলি না আসলেই ভালো;
চোখ বলে ফিরুক—আমি বলি অন্য কথা
সে ফিরুক অথবা না ফিরুক সে কাঁদুক অথবা না কাঁদুক
[দ্বিচারিতা]

(২) বদলী বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে মনকথা উল্লেখ নেই।
বদলী হতে হতে একদিন প্রতিবাদী দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে মনগাছ।
[মনগাছ]

(৩) একটা গভীরতা ছুঁয়েই দুঃখসমূহ বুদবুদ করে–

…তবে উনুনে চসা তহমিনা খাতুন উত্তর দিয়েছিলেন

“পাখিরা যেমন বনে সুন্দর – কষ্টেরা বুদবুদে

[বুদবুদ]

(৪) দয়িতার নাটকে ধর্মের জয় দেখে অধর্মের চোরাবালি কান্না,।
…এমনটাই ভাবি এখন। মানচিত্র ঘুমালে
এমন ভয়াল বেড়াল ঝাঁপিয়ে পড়ে কিনা।
একাত্তরে যেমন মানচিত্রকে ঘুমাতে দেয়নি কেউ কেউ….

[মানচিত্র ঘুমালে]


কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে জানতে হলে কৃষকের কাছে যেতে হবে। ধান প্রতীকী হিসাবে ববহার করা হয়েছে–

কাউনের ফুল থেকেও ভাতের ঘ্রাণ পাও
ধানফুল থেকেও পাও
জীবনের ঘ্রাণ ওখানেই।
…
জীবন জীবন খেললে ভোরের মাঠে আসী
ধানের কাছে খেলা শিখি—ধান খেলা শেখায়
ভাতকুমারিদের চেখে চেখে মাঠে শক্তি বাড়াই
[ভাতকুমারি]


গদ্যকবিতার ক্ষেত্রেও তিনি বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।  দুটি উদাহরণ।

(১) শুক্রবার আসলে পত্রিকার সাহিত্যপাতাগুলো ঝকমকি আলো ছড়ায়। ভাঁজ খসালে কবিতার পা
আস্তে আস্তে পৃথিবী দেখে–যেমন পৃথিবী দেখে ভূমিষ্টরত সন্তান।
[শুক্রবার]

(২) মেঘের ডিঙি সাঁতরাচ্ছে আকাশে–বেহিসেবি
শাঁই শাঁই কাশফুল। উজান দিকের লিপিস্টিক
পড়ুয়া হাওয়া–চুম্বন নেয়া শেষে ফেএ
গাভিন হওয়ার গল্প; গাভিন দুপুর, গাভিন ভোর
[শরৎ ও হিমাংশু সরকার]


চিত্র, উপমা বা চিত্রকল্পের ব্যবহারে বেশ ভালো দক্ষতা দেখিয়েছেন। আগুণের ছুরি, মেঘের ডিঙি সাঁতরাচ্ছে আকাশ, বাঁধাকপির খোপে পড়ে আছে সরল কুয়াশা,
মৌনতাকে ছিঁড়ে আঁকড়ে ধরে আছে হিমবাতাস, নাভীর নীচে লম্বাটে খেকশিয়ালের মোচ, বাদাম চেরা স্তন, চিত্রানদীর জোসনা ইত্যাদি উপমা, শব্দব্যবহার (ক্ষেত্রমতে চিত্রকল্প-নির্মাণ) আমার কথার সপক্ষে প্রমাণ দেওয়ার জন্য নমুনা বলেই মনে করি।  এসবের ক্ষেত্রে নতুন নতুন রুচিকর অবস্থাও উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করি।  যেমন—

টেবিলের ড্রয়ার খুললে প্যারাসিটামল  হেসে উঠে বলে, ‘আমাকে খাও’।
আমি খাই। আমি মূলত প্যারাসিটামল খাইনা—খাই তার হাসি।
এভাবে কয়েকদিন খেতে খেতে আমার রোগ সেরে গেলো।
ড. বললেন, ঔষধের চেয়ে হাসিতেই রোগ সারে বেশি।
[হাসি]

 

খোঁপায় তোর /হলুদ গাঁদা,/ চোখে প্রেমের/ হাসি

এই বসন্তে /নতুন করে/ তোরেই ভালো/বাসি

নতুন করে/ মনের কোণে,/আলগা হাওয়ার/ ছই

প্রেমিক জানে,/ হলদে দুপুর/ হলদে প্রেমিক/ সই

নদীর জলে/ আছড়ে পড়ে/ মনকথাদের/ দোল

গানের সাথে/ পিছলে পড়ে/ ‘ভালোবাসি’/ বোল

নদীর ধারে/ গেওড়া গাঁয়ে/ শিমুল বনের/ মেলা

আমের মোলে/ রোদপরীর/ করছে হাওয়ায়/ খেলা

এই যে ফাগুন,/ এই বসন্ত/ কেমনে বলো/ চিনি

ফুলের ঋণে/ হাত পেতেছে/ আমার বউ/ মিনি

[বসন্ত ও আমার বউ মিনি]

–এটি খুব একটা কবিতা হয়ে উঠেনি। বহমুখিনতা নেই বলে। প্রেমিকা বা বউয়ের বাইরে যেতে পারেননি কবি। বরং এটাকে ভালো পদ্য বলা যেতে পারে।  ৯ম পঙক্তির প্রথম পর্বে এক মাত্রা বেশি হয়েছে। ১০ ছত্রের কবিতা। মাত্রাসংখ্যা ৫+৫+৫+২। প্রতি পঙক্তির শেষ পর্ব অপূর্ণ পর্ব। কবিতা না-হয়ে ওঠার সংখ্যা কম। কবির প্রচুর সার্থক ও ভালো কবিতা রয়েছে। অন্ত্যমিলের বলে আলোচনায় তুলে এনেছি। ছন্দমাত্রা খুঁজে মিলাতে কষ্ট হচ্ছে। মাত্রাবৃত্ত বা অক্ষরবৃত্ত কোনো ছন্দে পরিপূর্ণতা দেওয়া যাচ্ছে না।


সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বলতে পারি, ছোটখাটো কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি বাদে বর্তমান সময়ের তুলনায় দ্বীপ সরকারের ‘’জখমগুচ্ছ’’ মোটামুটি ভালো একটি কাব্যগ্রন্থ। অলংকার, ভাব, ও বহুমুখীনতার জন্য কবিতাগুলোর বেশিরভাগ সুখপাঠ্য হয়েছে। সৌন্দর্য এবং সুন্দর চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে। মানুষ ও মানবতার কথা ফুটে উঠেছে। বেশিরভাগ কবিতা বহুমাত্রিকতা পেয়েছে। প্রেম, হতাশা, হাহাকারের বেদনা, অপ্রাপ্তির পাশাপাশি প্রাপ্তির বার্তাও আছে। নাগরিকযন্ত্রণা রয়েছে, রয়েছে মজলুমের অসহায়ত্বের বিষয়াদি। চিত্রকল্প, চিত্র ও অলংকার নির্মাণে দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে, তাঁর এ কাব্যগ্রন্থটির কবিতা আলোচনার যোগ্য মনে হয়েছে। সময়ের গতিতে কবি আরও শাণিত হচ্ছেন, ভবিষ্যতে আরও পরিপক্ক হবেন।  ছোট্ট করে বলতে পারি, বাংলা কবিতায় তিনি স্থান পেতে যাচ্ছেন।

লেখক  : কবি  প্রাবন্ধিক