ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জন্মদিন স্মরণ

আবু আফজাল সালেহ’র শিল্প-প্রকরণ

  • বাংলাবাঁক
  • আপডেট : ১২:১২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৪
  • 249


খায়রুল আলম রাজু 



বাংলা সাহিত্য কী? উত্তর, বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যকর্মই—বাংলা সাহিত্য নামে পরিচিত। সাহিত্যের নানাবিধ রূপ বা প্রকার আছে। তারমধ্যে অন্যতম শাখা হলো ছড়া আর কবিতা। ছড়া বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম একটি শাখা। এটি মূলত স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত হয়ে থাকে। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, ছড়া হলো, “ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত ঝংকারময় পদ্য। ” আর কবিতা বা কাব্য হলো, শব্দ প্রয়োগের ছান্দসিক কিংবা অনিবার্য ভাবার্থের বাক্য বিন্যাস। ভাষাবিজ্ঞানি ও সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদের মতে, “যা পড়লে মনের ভিতর স্বপ্ন জেগে ওঠে, ছবি ভেসে ওঠে, তা-ই কবিতা।” ছড়া লেখককে ছড়াকার আর কবিতা যিনি লিখেন তাদের  বলা হয়  কবি। আবু আফজাল সালেহ ও একজন  কবি, ছড়াকার এবং প্রাবন্ধিক। কবিতা আর ছড়া ছাড়াও তিনি প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী সহ নানা গবেষণামূলক লেখার সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্ব। সৃজনশীলতা, কাব্য প্রতিভা, শব্দের শৈল্পিকতাই উনার লেখার শ্রেষ্ঠ উপাদান। শিশুদের জন্য নিবেদিত তাঁর একমাত্র ছড়াগ্রন্থ  “ছড়ায় ছড়ায় উৎসব”। বইটির প্রতিটি ছড়া, ছড়ার ভাষা, শব্দ এবং বিষয়বস্তু সবকিছুই শিশুতোষ। লেখনশৈলী, শব্দ চয়ন, বাক্যগঠন নিটোল সুন্দর সাবলীল ও ঝরঝরে— ঠিক যেন ফুলের মতন। বইটির চমৎকার কয়েকটি ছড়ার শিরোনামই যেন একেকটি ছড়ার সমতুল্য। তারমধ্যে নদীর ধারে পাখির বাসা, মায়ের ভাষা আমার ভাষা, রঙিন ঘুড়ি এবং খোকন সোনার বায় না অন্যতম। তাছাড়া ও আছে  দিল আনন্দে ভাসে, ফাগুন মাস, রবি তুমি ইচ্ছেখাতায় সহ ইচ্ছে জাগে একটি পাখির মত চমৎকার শিরোনামের ছড়া। প্রকৃতির উপাদান নদী, গাছ, বন, পাখি, তরুলতা কীটপতঙ্গ কত কি… তিনিও প্রকৃতির কবি। নদী ও প্রকৃতি তার ছড়ার অন্যতম এক উপাদান। আকাশে ভেসে উড়া টুকরো মেঘের মতই গতিশীল ছন্দে তিনি বুনতে থাকেন নদী ও প্রকৃতির কথা— সবুজ গাঁয়ের কথা, আঁকাবাঁকা মেঠোপথের দুপাশে বেড়ে ওঠা কচি সবুজ ঘাস ফুলেদের কথা… এলোমেলো করে যদি কয়েকটা ছড়ার অনেকগুলি লাইন  লিখি তাতেই ভেসে উঠবে সেসব কথার স্থির চিত্র,

 

১- নদীর ধারে পাখির বাসা, চিল-শালিকে করে খেলা।

২- উঠোন জুড়ে পাখি মেলা মন ভরে কুজনে…

৩- চকচকে রোদ শুভ্র-সাদা মেঘ চলে যায় হেসে।

৪- বৃষ্টি পড়ে ঝিরঝিরিয়ে, টিনের চালে কলকলিয়ে…

 

প্রকৃতি ও নদী, নদী ও প্রকৃতি ঘুরেফিরে তাঁর লেখার মুখ্য এক উপাদান। এমনই তো হবার কথা। কবিরা ছন্দ খুঁজবে নদীর জলে, সবুজ ধানের শিশু চারা গাছে, দুলতে থাকা কলমি ফুলের গন্ধে— সুভাষিত বকুলের ও গোলাপের ঘ্রাণে… এখানে ওখানে বেড়ে ওঠা পরগাছায়…

 

আবার ছড়ায় তিনি কখনো প্রকৃতি প্রেমি, কখনো নজরুল ও রবি ভক্ত কখনো আবার তিনি প্রতিবাদী। ভীষণ প্রতিবাদী! ভীষণ! নিচের ছড়াংশটি যেন তারই এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ,

 

দমে যায়নি তরুণ-সমাজ

বুলেট গান ব্যাঙ্কারে,

বাংলা ভাষা রাখতে উঁচু

ভয় পায়নি হুঙ্কারে…

(ছড়াঃ মায়ের ভাষা রাখতে উঁচু)

 

কবি নজরুলের মত তিনিও যেন সুর তুলেন সাম্যের। ছন্দ বুনেন সম-অধিকারের। ছড়ার ছন্দে তাই কখনো যেমন তিনি প্রকৃতি প্রেমি ঠিক তেমনিভাবে তিনি আবার প্রতিবাদী, সাম্যবাদী ও পরাবাস্তববাদী। ছড়ায় এঁকেছেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়ের আনন্দ খুশির উল্লাস ভরা ছন্দকথা…

 

কবিতায় তিনি আরও এক শ্রেষ্ঠ কাব্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। কবিতা যেন তাঁর একেকটা ফুলের সৌরভ, চাঁদের জোছনা, ছেলেবেলার ছবি, লাউয়ের মাচায় ফিঙের নাচন, আমতলীর মেলা— কবিতার পঙক্তি, শব্দ ও বাক্য, উপমা আর অলংকরণে তিনি যেন নতুন এক সুকান্ত, ভিন্ন এক জীবনানন্দ কিংবা পল্লী কবির আধুনিক প্রতিভা! কবিতার পঙক্তিতে কখনো তিনি সাহসী, অকতোভয়, বীর; আবার কখনো তিনি সহজ-সরল, সাদামাটা, নদীর মত বহমান, শিশুর মত শান্ত, বাঁশগাছের মত স্থির— পরক্ষণেই যেন আগুনের লেলিহান দাবালনের মতো ভয়ংকর…

 

এসব কথার উদাহরণ লেখার আগে কেমন উনার কবিতা তাও বলছি না। কাব্যগ্রন্থের নামকরণ যেন বলে উনি প্রেমিক। সবকিছুর শুরু ও শেষে তিনি সত্যি প্রেমিক। “ বারবার ফিরে আসি ” ও “ বলেই ফেলি ভালোবাসি” বইদুটো যেন তা-ই বলে। কথাটির সত্যতার জন্য লেখকের কয়েকটি কবিতার শিরোনাম পড়া যেতে পারে। নামকরণের মাধ্যমেই যেন ভেসে উঠে লেখকের প্রেমিক হবার সার্থকতা।

 

১- হয়ত প্রেমে পড়েছিলাম।

২- তোমার চিঠি।

৩- বিজয়ী চুম্বন।

৪- নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছি তোমাকে না পেয়ে।

 

হাসি-দুঃখ, বেদনা-হাহাকার, প্রেম-প্রকৃতি, প্রতিবাদ-সরলতা সবকিছুর সংমিশ্রণে সেজেগুজে উঠে তাঁর একেকটি কবিতা— কবিতার পঙক্তি।

মাটি ও মানুষ, আন্দোলন-সংগ্রাম, নদী ও প্রকৃতি, গ্রাম ও শহর, লোকজ উপাদানে ভরপুর উনার কাব্য। এজন্যই হয়ত বিজ্ঞজন সাহিত্য চর্চাকে শিল্প ও সাহিত্য নামে দুটো ভাগ করেছেন। সাহিত্য ও শিল্প বড়োই আলাদা। সাহিত্য সবাই সৃষ্টি করলেও শিল্প গড়ে তোলা বড্ড কঠিন বটে।

 

সেই কঠিন ও জটিলতা পেরিয়ে শিল্প ও সাহিত্য কিংবা সাহিত্য ও শিল্প তৈরীতে তিনি যেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর কলম, কবিতার শব্দ, নান্দনিক উপমা, বাক্য গঠন, কবিতা সাজিয়ে তোলার ধৈর্য সবকিছু তাঁর আছে। এজন্য থাকে আমি প্রকৃতি ও প্রেমের কবি, ঋতু ও সাম্যের কবি,  পরাবাস্তববাদী ও প্রতিবাদী কবি বলেই সম্বোধন করছি।

 

নিচের পঙক্তিমালা, শব্দ ও উপমা জানান দেয় তিনি সাহসী ও বীর। বলে দেয় তিনি স্বাধীনতার পক্ষের এক যুক্তিবাদী কবি।

 

১- মানচিত্র ছিঁড়ে খেতে চায় শকুনেরা!

২- এজিদ-মীরজাফর একটি গালিমাত্র।

৩- সাতটি রঙ, পাই একটি কবিতার খোঁজ…

 

দেশ ও দশের কথা, প্রেয়সী ও নদীর কথা, মাটি ও সরলতার ভাষা, প্রকৃতি আর প্রতিবাদ যেন ফুটে উঠে নিচের কবিতাবলির নামকরণে—

 

১- প্রজাপতি মানুষের গল্প।

২- আমি একটি সমুদ্র হতে চেয়েছিলাম।

৩- শ্রেষ্ঠতম বন্ধু।

৪-লোভীদের ভুলে স্বপ্ন ভাঙে বারবার।

 

তাঁর লেখার উপকরণ প্রকৃতি। বাক্য ও ভাষা সাবলীল —ঝরঝরে।  উপমা ও শব্দ চয়ন তুলনাহীন। কবিতার পঙক্তি যেন শক্তিশালী মস্ত বড়ো ইমারত, উঁচু দন্ডায়মান পাহাড় কিংবা সুবিশাল আকাশ। খ্যাতিমান এই লেখকের জন্ম ১৯৮১ সালের ১৫ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার মদনা গ্রামে। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: রেজাউল করিম কৃষক ও মাতা শাহিদা বেগম। সরকারি চাকুরির পাশাপাশি দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিয়মিত ছড়া, কবিতা, নিবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনী লিখছেন। লেখালেখিতে অবদানের জন্য পেয়েছেন দোনাগাজি পদক-২০২১, প্রিয় বাংলা লেখক সম্মাননা-২০২২, মানববার্তা সম্মাননা-২০১৮ সহ অনেক পুরষ্কার।

 

খায়রুল আলম রাজু 

নির্বাহী সম্পাদক

ছোটদের পত্রিকা শিশুটামি

মোবা- ০১৭১৯-৮০৩৭৭০

জনপ্রিয় পোস্ট

আবু আফজাল সালেহর ছড়া: সমাজ, প্রকৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধন

জন্মদিন স্মরণ

আবু আফজাল সালেহ’র শিল্প-প্রকরণ

আপডেট : ১২:১২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৪


খায়রুল আলম রাজু 



বাংলা সাহিত্য কী? উত্তর, বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যকর্মই—বাংলা সাহিত্য নামে পরিচিত। সাহিত্যের নানাবিধ রূপ বা প্রকার আছে। তারমধ্যে অন্যতম শাখা হলো ছড়া আর কবিতা। ছড়া বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম একটি শাখা। এটি মূলত স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত হয়ে থাকে। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, ছড়া হলো, “ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত ঝংকারময় পদ্য। ” আর কবিতা বা কাব্য হলো, শব্দ প্রয়োগের ছান্দসিক কিংবা অনিবার্য ভাবার্থের বাক্য বিন্যাস। ভাষাবিজ্ঞানি ও সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদের মতে, “যা পড়লে মনের ভিতর স্বপ্ন জেগে ওঠে, ছবি ভেসে ওঠে, তা-ই কবিতা।” ছড়া লেখককে ছড়াকার আর কবিতা যিনি লিখেন তাদের  বলা হয়  কবি। আবু আফজাল সালেহ ও একজন  কবি, ছড়াকার এবং প্রাবন্ধিক। কবিতা আর ছড়া ছাড়াও তিনি প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী সহ নানা গবেষণামূলক লেখার সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্ব। সৃজনশীলতা, কাব্য প্রতিভা, শব্দের শৈল্পিকতাই উনার লেখার শ্রেষ্ঠ উপাদান। শিশুদের জন্য নিবেদিত তাঁর একমাত্র ছড়াগ্রন্থ  “ছড়ায় ছড়ায় উৎসব”। বইটির প্রতিটি ছড়া, ছড়ার ভাষা, শব্দ এবং বিষয়বস্তু সবকিছুই শিশুতোষ। লেখনশৈলী, শব্দ চয়ন, বাক্যগঠন নিটোল সুন্দর সাবলীল ও ঝরঝরে— ঠিক যেন ফুলের মতন। বইটির চমৎকার কয়েকটি ছড়ার শিরোনামই যেন একেকটি ছড়ার সমতুল্য। তারমধ্যে নদীর ধারে পাখির বাসা, মায়ের ভাষা আমার ভাষা, রঙিন ঘুড়ি এবং খোকন সোনার বায় না অন্যতম। তাছাড়া ও আছে  দিল আনন্দে ভাসে, ফাগুন মাস, রবি তুমি ইচ্ছেখাতায় সহ ইচ্ছে জাগে একটি পাখির মত চমৎকার শিরোনামের ছড়া। প্রকৃতির উপাদান নদী, গাছ, বন, পাখি, তরুলতা কীটপতঙ্গ কত কি… তিনিও প্রকৃতির কবি। নদী ও প্রকৃতি তার ছড়ার অন্যতম এক উপাদান। আকাশে ভেসে উড়া টুকরো মেঘের মতই গতিশীল ছন্দে তিনি বুনতে থাকেন নদী ও প্রকৃতির কথা— সবুজ গাঁয়ের কথা, আঁকাবাঁকা মেঠোপথের দুপাশে বেড়ে ওঠা কচি সবুজ ঘাস ফুলেদের কথা… এলোমেলো করে যদি কয়েকটা ছড়ার অনেকগুলি লাইন  লিখি তাতেই ভেসে উঠবে সেসব কথার স্থির চিত্র,

 

১- নদীর ধারে পাখির বাসা, চিল-শালিকে করে খেলা।

২- উঠোন জুড়ে পাখি মেলা মন ভরে কুজনে…

৩- চকচকে রোদ শুভ্র-সাদা মেঘ চলে যায় হেসে।

৪- বৃষ্টি পড়ে ঝিরঝিরিয়ে, টিনের চালে কলকলিয়ে…

 

প্রকৃতি ও নদী, নদী ও প্রকৃতি ঘুরেফিরে তাঁর লেখার মুখ্য এক উপাদান। এমনই তো হবার কথা। কবিরা ছন্দ খুঁজবে নদীর জলে, সবুজ ধানের শিশু চারা গাছে, দুলতে থাকা কলমি ফুলের গন্ধে— সুভাষিত বকুলের ও গোলাপের ঘ্রাণে… এখানে ওখানে বেড়ে ওঠা পরগাছায়…

 

আবার ছড়ায় তিনি কখনো প্রকৃতি প্রেমি, কখনো নজরুল ও রবি ভক্ত কখনো আবার তিনি প্রতিবাদী। ভীষণ প্রতিবাদী! ভীষণ! নিচের ছড়াংশটি যেন তারই এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ,

 

দমে যায়নি তরুণ-সমাজ

বুলেট গান ব্যাঙ্কারে,

বাংলা ভাষা রাখতে উঁচু

ভয় পায়নি হুঙ্কারে…

(ছড়াঃ মায়ের ভাষা রাখতে উঁচু)

 

কবি নজরুলের মত তিনিও যেন সুর তুলেন সাম্যের। ছন্দ বুনেন সম-অধিকারের। ছড়ার ছন্দে তাই কখনো যেমন তিনি প্রকৃতি প্রেমি ঠিক তেমনিভাবে তিনি আবার প্রতিবাদী, সাম্যবাদী ও পরাবাস্তববাদী। ছড়ায় এঁকেছেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়ের আনন্দ খুশির উল্লাস ভরা ছন্দকথা…

 

কবিতায় তিনি আরও এক শ্রেষ্ঠ কাব্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। কবিতা যেন তাঁর একেকটা ফুলের সৌরভ, চাঁদের জোছনা, ছেলেবেলার ছবি, লাউয়ের মাচায় ফিঙের নাচন, আমতলীর মেলা— কবিতার পঙক্তি, শব্দ ও বাক্য, উপমা আর অলংকরণে তিনি যেন নতুন এক সুকান্ত, ভিন্ন এক জীবনানন্দ কিংবা পল্লী কবির আধুনিক প্রতিভা! কবিতার পঙক্তিতে কখনো তিনি সাহসী, অকতোভয়, বীর; আবার কখনো তিনি সহজ-সরল, সাদামাটা, নদীর মত বহমান, শিশুর মত শান্ত, বাঁশগাছের মত স্থির— পরক্ষণেই যেন আগুনের লেলিহান দাবালনের মতো ভয়ংকর…

 

এসব কথার উদাহরণ লেখার আগে কেমন উনার কবিতা তাও বলছি না। কাব্যগ্রন্থের নামকরণ যেন বলে উনি প্রেমিক। সবকিছুর শুরু ও শেষে তিনি সত্যি প্রেমিক। “ বারবার ফিরে আসি ” ও “ বলেই ফেলি ভালোবাসি” বইদুটো যেন তা-ই বলে। কথাটির সত্যতার জন্য লেখকের কয়েকটি কবিতার শিরোনাম পড়া যেতে পারে। নামকরণের মাধ্যমেই যেন ভেসে উঠে লেখকের প্রেমিক হবার সার্থকতা।

 

১- হয়ত প্রেমে পড়েছিলাম।

২- তোমার চিঠি।

৩- বিজয়ী চুম্বন।

৪- নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছি তোমাকে না পেয়ে।

 

হাসি-দুঃখ, বেদনা-হাহাকার, প্রেম-প্রকৃতি, প্রতিবাদ-সরলতা সবকিছুর সংমিশ্রণে সেজেগুজে উঠে তাঁর একেকটি কবিতা— কবিতার পঙক্তি।

মাটি ও মানুষ, আন্দোলন-সংগ্রাম, নদী ও প্রকৃতি, গ্রাম ও শহর, লোকজ উপাদানে ভরপুর উনার কাব্য। এজন্যই হয়ত বিজ্ঞজন সাহিত্য চর্চাকে শিল্প ও সাহিত্য নামে দুটো ভাগ করেছেন। সাহিত্য ও শিল্প বড়োই আলাদা। সাহিত্য সবাই সৃষ্টি করলেও শিল্প গড়ে তোলা বড্ড কঠিন বটে।

 

সেই কঠিন ও জটিলতা পেরিয়ে শিল্প ও সাহিত্য কিংবা সাহিত্য ও শিল্প তৈরীতে তিনি যেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর কলম, কবিতার শব্দ, নান্দনিক উপমা, বাক্য গঠন, কবিতা সাজিয়ে তোলার ধৈর্য সবকিছু তাঁর আছে। এজন্য থাকে আমি প্রকৃতি ও প্রেমের কবি, ঋতু ও সাম্যের কবি,  পরাবাস্তববাদী ও প্রতিবাদী কবি বলেই সম্বোধন করছি।

 

নিচের পঙক্তিমালা, শব্দ ও উপমা জানান দেয় তিনি সাহসী ও বীর। বলে দেয় তিনি স্বাধীনতার পক্ষের এক যুক্তিবাদী কবি।

 

১- মানচিত্র ছিঁড়ে খেতে চায় শকুনেরা!

২- এজিদ-মীরজাফর একটি গালিমাত্র।

৩- সাতটি রঙ, পাই একটি কবিতার খোঁজ…

 

দেশ ও দশের কথা, প্রেয়সী ও নদীর কথা, মাটি ও সরলতার ভাষা, প্রকৃতি আর প্রতিবাদ যেন ফুটে উঠে নিচের কবিতাবলির নামকরণে—

 

১- প্রজাপতি মানুষের গল্প।

২- আমি একটি সমুদ্র হতে চেয়েছিলাম।

৩- শ্রেষ্ঠতম বন্ধু।

৪-লোভীদের ভুলে স্বপ্ন ভাঙে বারবার।

 

তাঁর লেখার উপকরণ প্রকৃতি। বাক্য ও ভাষা সাবলীল —ঝরঝরে।  উপমা ও শব্দ চয়ন তুলনাহীন। কবিতার পঙক্তি যেন শক্তিশালী মস্ত বড়ো ইমারত, উঁচু দন্ডায়মান পাহাড় কিংবা সুবিশাল আকাশ। খ্যাতিমান এই লেখকের জন্ম ১৯৮১ সালের ১৫ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার মদনা গ্রামে। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: রেজাউল করিম কৃষক ও মাতা শাহিদা বেগম। সরকারি চাকুরির পাশাপাশি দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিয়মিত ছড়া, কবিতা, নিবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনী লিখছেন। লেখালেখিতে অবদানের জন্য পেয়েছেন দোনাগাজি পদক-২০২১, প্রিয় বাংলা লেখক সম্মাননা-২০২২, মানববার্তা সম্মাননা-২০১৮ সহ অনেক পুরষ্কার।

 

খায়রুল আলম রাজু 

নির্বাহী সম্পাদক

ছোটদের পত্রিকা শিশুটামি

মোবা- ০১৭১৯-৮০৩৭৭০