ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাঁকবদলের কবি ও কবিতা

আমিনুল ইসলামের কবিতা : বোধ ও উপলব্ধির আকাশ

  • বাংলাবাঁক
  • আপডেট : ০৯:৩২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪
  • 339
কবি আমিনুল ইসলাম (জন্ম : চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২৯ ডিসেম্বর ১৯৬৩)


আবু আফজাল সালেহ



জীবনানন্দ দাশের বোধ ও উপলব্ধির একটি মূলনীতি হচ্ছে: ‘যারা অন্ধ তারা বেশি দেখে’। কবি  আমিনুল ইসলামের কবিতার বোধ ও উপলব্ধির মূল একটি বিষয়ও বোধ ও উপলব্ধি। দুজনের বোধ ও উপলব্ধির অনেক কবিতা রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ ও উচ্চারণে তাঁদের কবিতায় ভিন্নতা রয়েছে। আমিনুল ইসলাম বলার পাশাপাশি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন–প্রমাণ দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন। তাঁর কবিতা পড়লে এ কথার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

কবি আমিনুল ইসলাম কবিতায় প্রচুর পরিভাষা ও দাপ্তরিক শব্দ ব্যবহার করেছেন। এসব শব্দাবলি পাঠকের কাছে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন, বা তারও বেশি। অম্লজান বা কেদারা আমরা কতজন জানি? যদি বলি অক্সিজেন বা চেয়ার! তাহলে সবাই বুঝবে বিষয়টি। কবি আমিনুল ইসলামের পরিভাষা বা দাপ্তরিক-ইংরেজি শব্দের প্রচুর ব্যবহার আলোচনার এক স্পেস সৃষ্টি করেছে। ভূগোল বা ইতিহাস-ঐতিহ্যের বা মিথ ব্যবহারেও উদার হয়েছেন তিনি। উপমা, অলংকার বা চিত্রকল্প নির্মাণে এসব নির্মাণে সিদ্ধহস্ত হয়েছেন। যথার্থতার কাছে যেতে চেয়েছেন এবং প্রায় অংশে সফল হয়েছেন।  সমালোচকদেরকে এমন সাহসী কিছু উদ্যোগ বা সম্ভাবনার জানালাকে উপেক্ষা করা উচিত হবে না বরং স্বাগত জানাতে হবে। এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।

সমালোচনা হচ্ছে, একজন ব্যক্তি, স্থান, জিনিস বা কর্মের প্রামাণিক মূল্যায়ন, বিচার বা যুক্তি যা আলোচিত ব্যক্তি/কর্মের গুণমানকে উন্নত করা। সাহিত্যের কাজগুলোর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, শ্রেণিকরণ, এবং শেষ পর্যন্ত বিচার করাকেই বোঝায়। সাহিত্যের সৌন্দর্য, শক্তি, দুর্বলতা ইত্যাদি চিহ্নিত করতে বা ব্যাখ্যা করতে বিভিন্ন তত্ত্ব-নীতির প্রয়োগ করতে হয়। বিভিন্ন অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় মতবাদও প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে। পাঠ্যের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া বলে একটি বিষয় লক্ষ করা যায়। সাহিত্য সমাজকে ধারণ করে। সমাজের সব উপাদান অবলম্বন করব একটি চিত্র উপস্থাপিত হয়। অতীতের সঙ্গে ভবিষ্যতের নাগরিকের মানসের সাঁকো নির্মিত করে সাহিত্য। যুদ্ধ, প্রকৃতি-পরিবেশ, প্রতিবেশ, অর্থনীতি, এমনকি রাজনীতি সাহিত্য অধ্যয়নের সঙ্গে জড়িত।একই ভৌগলিক বিন্যাস, একই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, বা অনুরূপ পরিবেশ-সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক নিয়ম। উপলব্ধির কবিতা আমিনুল ইসলামকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। কার কাজ কি, যার দায়িত্ব যা, তা সঠিকভাবে পালন করছে কিনা, নিজের পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি এ কবিতার উপজীব্য। আমিনুল ইসলাম এসব কবিতা নির্মাণে স্যাটায়ার উপাদানে বক্তব্য সম্প্রসারণ ও স্পষ্ট করেছেন।

সমাজ ও আমরা যাকে সত্য বা বাস্তব বলে মানি তা কি সংশ্লিরা যথাযথ প্রতিপালন করছেন কিনা! কোনো অসঙ্গতি থাকলে কবি আমিনুল ইসলাম চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এখানে তাঁর উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ হয়েছে ‘বিবেকের দায়’ থেকে। অনেক কবি যখন বিবেকের দায় থেকে সরে এসে চুপ থাকছেন কবি আমিনুল ইসলাম তা অবলীলায় বলে দিচ্ছেন। কখনো বিদ্রুপের সুরে কখনো বিপ্লবী সুরে। কখনো বিচারের ভার ছেড়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের উপর। পাঠকের উপর একতরফা রায় দিয়ে দেননি, বিচারের ক্ষমতা দিয়েছেন।কার্যক্রম কি হওয়ার দরকার, কি করছে ইত্যাদির আলোকে কবি তাঁর উপলব্ধি ও কী হওয়ার দরকার ছিল ইত্যাদি বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন বিভিন্ন কবিতায়। কবি যা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তাই খোলামেলা বলে দিয়েছেন কবিতায়। রাখঢাক করেননি। কেউ মনোক্ষুণ্ণ হলেও তিনি অনুতপ্ত হবেন না।

বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপলব্ধির সুক্ষ্ণ বিষয়াদির অন্বেষণ করা। কীভাবে পক্ষপাত হচ্ছে, কাউকে হাইলাইটস করা হচ্ছে, কাদেরকে অবহেলিত করে রাখা হচ্ছে ইত্যাদি ইতিবাচক-নেতিবাচক বিষয়াদি কবির চোখে বা উপলব্ধিতে উপস্থাপন করাই এই কবিতার প্রধান লক্ষ।  উপলব্ধির  উপর বাহ্যিক উপাদানের প্রভাব, প্রশ্ন, সীমাবদ্ধতার বিষয়াদি, বাস্তবতা ইত্যাদি। কবি আমিনুল ইসলাম যেমন জাতিসংঘের অকার্যকারিতার পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা উন্নত দেশের দায় দেখেন। জলবায়ু অবনমনে শিল্পোন্নত দেশের দায়।  এক্ষেত্রে আমিনুল ইসলাম রূপক বা বিভিন্ন উপমার আশ্রয় নিয়েছেন। একটি আকর্ষণীয় চিত্র দিয়ে শুরু করা উপলব্ধি কবিতার বিষয়। এরপর পাঠককে সংবেদনশীল করে তোলার চেষ্টা করা হয়। এরপর ছোট-ছোট চিত্রে বর্ণনা করা। এতে পাঠকের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্ক নির্মিত হয়ে পাঠকের নিজস্ব অনুভূতি হিসাবে বিবেচনা করানোর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।আমরা যা বলি বা আমরা যা করি এসব নিয়ে ভাবা, বারংবার প্রশ্ন করা এবং সমাধান খোঁজার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপগ্রহণের কার্যক্রমই হচ্ছে উপলব্ধির কবিতার মূল বিষয় বা থিম। উপলব্ধির কবিতা নির্মাণ করতে আমিনুল ইসলাম কি কি বিষয় বা পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন? তিনি–
১. প্রতীকীর আশ্রয় নিয়েছেন;
২. সরাসরি বলেছেন;
৩. স্যাটায়ার ধারা অবলম্বন করেছেন;
৪. বিভিন্ন মতামত/তত্ত্ব, অতীত-আশ্রয়ী হয়েছেন;
৫. বাস্তবতা ও নিজস্ব অভিজ্ঞতার বলে আবেগের বহিঃপ্রকাশ করেছেন।

কোনো অনুভূতি বা মানসিক অভিজ্ঞতার প্রথম অবস্থা হলো, যেমনটি হচ্ছে সেটি ঠিক কিনা, নাহলে কেমন হওয়া উচিত। বিভক্তির টানাপোড়েনে একটি বক্তব্য থাকে যা বিবেক থেকে উৎসারিত–বোধ মূলত কাজ করে এমন ধারণা প্রকাশে।  কবি আমিনুল ইসলাম অভিজ্ঞতা ও বিমূর্ত ধারণাগুলির মধ্যে সমান্তরাল চিত্র অঙ্নকন করেছেন। আমরা কীভাবে বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের উপিলব্ধি তৈরি করতে পারি তার গভীরভাবে বোঝার রসদ জোগান দেয় তাঁর কবিতা। কবির ইতিবাচক প্রস্তাব বা ধারণা পাঠককে ভাবাতে খোরাক জোগাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক। সম্পাদক, বাংলাবাঁক। 

 

জনপ্রিয় পোস্ট

আবু আফজাল সালেহর ছড়া: সমাজ, প্রকৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধন

বাঁকবদলের কবি ও কবিতা

আমিনুল ইসলামের কবিতা : বোধ ও উপলব্ধির আকাশ

আপডেট : ০৯:৩২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪
কবি আমিনুল ইসলাম (জন্ম : চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২৯ ডিসেম্বর ১৯৬৩)


আবু আফজাল সালেহ



জীবনানন্দ দাশের বোধ ও উপলব্ধির একটি মূলনীতি হচ্ছে: ‘যারা অন্ধ তারা বেশি দেখে’। কবি  আমিনুল ইসলামের কবিতার বোধ ও উপলব্ধির মূল একটি বিষয়ও বোধ ও উপলব্ধি। দুজনের বোধ ও উপলব্ধির অনেক কবিতা রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ ও উচ্চারণে তাঁদের কবিতায় ভিন্নতা রয়েছে। আমিনুল ইসলাম বলার পাশাপাশি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন–প্রমাণ দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন। তাঁর কবিতা পড়লে এ কথার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

কবি আমিনুল ইসলাম কবিতায় প্রচুর পরিভাষা ও দাপ্তরিক শব্দ ব্যবহার করেছেন। এসব শব্দাবলি পাঠকের কাছে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন, বা তারও বেশি। অম্লজান বা কেদারা আমরা কতজন জানি? যদি বলি অক্সিজেন বা চেয়ার! তাহলে সবাই বুঝবে বিষয়টি। কবি আমিনুল ইসলামের পরিভাষা বা দাপ্তরিক-ইংরেজি শব্দের প্রচুর ব্যবহার আলোচনার এক স্পেস সৃষ্টি করেছে। ভূগোল বা ইতিহাস-ঐতিহ্যের বা মিথ ব্যবহারেও উদার হয়েছেন তিনি। উপমা, অলংকার বা চিত্রকল্প নির্মাণে এসব নির্মাণে সিদ্ধহস্ত হয়েছেন। যথার্থতার কাছে যেতে চেয়েছেন এবং প্রায় অংশে সফল হয়েছেন।  সমালোচকদেরকে এমন সাহসী কিছু উদ্যোগ বা সম্ভাবনার জানালাকে উপেক্ষা করা উচিত হবে না বরং স্বাগত জানাতে হবে। এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।

সমালোচনা হচ্ছে, একজন ব্যক্তি, স্থান, জিনিস বা কর্মের প্রামাণিক মূল্যায়ন, বিচার বা যুক্তি যা আলোচিত ব্যক্তি/কর্মের গুণমানকে উন্নত করা। সাহিত্যের কাজগুলোর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, শ্রেণিকরণ, এবং শেষ পর্যন্ত বিচার করাকেই বোঝায়। সাহিত্যের সৌন্দর্য, শক্তি, দুর্বলতা ইত্যাদি চিহ্নিত করতে বা ব্যাখ্যা করতে বিভিন্ন তত্ত্ব-নীতির প্রয়োগ করতে হয়। বিভিন্ন অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় মতবাদও প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে। পাঠ্যের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া বলে একটি বিষয় লক্ষ করা যায়। সাহিত্য সমাজকে ধারণ করে। সমাজের সব উপাদান অবলম্বন করব একটি চিত্র উপস্থাপিত হয়। অতীতের সঙ্গে ভবিষ্যতের নাগরিকের মানসের সাঁকো নির্মিত করে সাহিত্য। যুদ্ধ, প্রকৃতি-পরিবেশ, প্রতিবেশ, অর্থনীতি, এমনকি রাজনীতি সাহিত্য অধ্যয়নের সঙ্গে জড়িত।একই ভৌগলিক বিন্যাস, একই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, বা অনুরূপ পরিবেশ-সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক নিয়ম। উপলব্ধির কবিতা আমিনুল ইসলামকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। কার কাজ কি, যার দায়িত্ব যা, তা সঠিকভাবে পালন করছে কিনা, নিজের পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি এ কবিতার উপজীব্য। আমিনুল ইসলাম এসব কবিতা নির্মাণে স্যাটায়ার উপাদানে বক্তব্য সম্প্রসারণ ও স্পষ্ট করেছেন।

সমাজ ও আমরা যাকে সত্য বা বাস্তব বলে মানি তা কি সংশ্লিরা যথাযথ প্রতিপালন করছেন কিনা! কোনো অসঙ্গতি থাকলে কবি আমিনুল ইসলাম চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এখানে তাঁর উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ হয়েছে ‘বিবেকের দায়’ থেকে। অনেক কবি যখন বিবেকের দায় থেকে সরে এসে চুপ থাকছেন কবি আমিনুল ইসলাম তা অবলীলায় বলে দিচ্ছেন। কখনো বিদ্রুপের সুরে কখনো বিপ্লবী সুরে। কখনো বিচারের ভার ছেড়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের উপর। পাঠকের উপর একতরফা রায় দিয়ে দেননি, বিচারের ক্ষমতা দিয়েছেন।কার্যক্রম কি হওয়ার দরকার, কি করছে ইত্যাদির আলোকে কবি তাঁর উপলব্ধি ও কী হওয়ার দরকার ছিল ইত্যাদি বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন বিভিন্ন কবিতায়। কবি যা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তাই খোলামেলা বলে দিয়েছেন কবিতায়। রাখঢাক করেননি। কেউ মনোক্ষুণ্ণ হলেও তিনি অনুতপ্ত হবেন না।

বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপলব্ধির সুক্ষ্ণ বিষয়াদির অন্বেষণ করা। কীভাবে পক্ষপাত হচ্ছে, কাউকে হাইলাইটস করা হচ্ছে, কাদেরকে অবহেলিত করে রাখা হচ্ছে ইত্যাদি ইতিবাচক-নেতিবাচক বিষয়াদি কবির চোখে বা উপলব্ধিতে উপস্থাপন করাই এই কবিতার প্রধান লক্ষ।  উপলব্ধির  উপর বাহ্যিক উপাদানের প্রভাব, প্রশ্ন, সীমাবদ্ধতার বিষয়াদি, বাস্তবতা ইত্যাদি। কবি আমিনুল ইসলাম যেমন জাতিসংঘের অকার্যকারিতার পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা উন্নত দেশের দায় দেখেন। জলবায়ু অবনমনে শিল্পোন্নত দেশের দায়।  এক্ষেত্রে আমিনুল ইসলাম রূপক বা বিভিন্ন উপমার আশ্রয় নিয়েছেন। একটি আকর্ষণীয় চিত্র দিয়ে শুরু করা উপলব্ধি কবিতার বিষয়। এরপর পাঠককে সংবেদনশীল করে তোলার চেষ্টা করা হয়। এরপর ছোট-ছোট চিত্রে বর্ণনা করা। এতে পাঠকের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্ক নির্মিত হয়ে পাঠকের নিজস্ব অনুভূতি হিসাবে বিবেচনা করানোর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।আমরা যা বলি বা আমরা যা করি এসব নিয়ে ভাবা, বারংবার প্রশ্ন করা এবং সমাধান খোঁজার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপগ্রহণের কার্যক্রমই হচ্ছে উপলব্ধির কবিতার মূল বিষয় বা থিম। উপলব্ধির কবিতা নির্মাণ করতে আমিনুল ইসলাম কি কি বিষয় বা পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন? তিনি–
১. প্রতীকীর আশ্রয় নিয়েছেন;
২. সরাসরি বলেছেন;
৩. স্যাটায়ার ধারা অবলম্বন করেছেন;
৪. বিভিন্ন মতামত/তত্ত্ব, অতীত-আশ্রয়ী হয়েছেন;
৫. বাস্তবতা ও নিজস্ব অভিজ্ঞতার বলে আবেগের বহিঃপ্রকাশ করেছেন।

কোনো অনুভূতি বা মানসিক অভিজ্ঞতার প্রথম অবস্থা হলো, যেমনটি হচ্ছে সেটি ঠিক কিনা, নাহলে কেমন হওয়া উচিত। বিভক্তির টানাপোড়েনে একটি বক্তব্য থাকে যা বিবেক থেকে উৎসারিত–বোধ মূলত কাজ করে এমন ধারণা প্রকাশে।  কবি আমিনুল ইসলাম অভিজ্ঞতা ও বিমূর্ত ধারণাগুলির মধ্যে সমান্তরাল চিত্র অঙ্নকন করেছেন। আমরা কীভাবে বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের উপিলব্ধি তৈরি করতে পারি তার গভীরভাবে বোঝার রসদ জোগান দেয় তাঁর কবিতা। কবির ইতিবাচক প্রস্তাব বা ধারণা পাঠককে ভাবাতে খোরাক জোগাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক। সম্পাদক, বাংলাবাঁক।