আরব বসন্ত
পশ্চিমের ঝড়- অগ্নিগোলা আর বজ্রশেলে গুড়িয়ে দিয়েছে
সর্দার-বালিয়াড়ির চূড়া- ধুলোয় লুটায় স্বৈর শিরস্ত্রাণ
ছিন্নভিন্ন শরীরের সবখানে ছোপ ছোপ ছাপ;
মৌসুমের বেড়ালটি যে এতদিন যাবত শৃঙ্খলিতপায়ে
হেরেমের নর্তকীর মনে নেচে এসেছে বালিয়াড়ির কোলে,
ফলে তো না বর্ষা- না বসন্ত-
কোনোটাই আসেনিকো-বিস্তারিত প্রাণের প্রান্তরে
এবং বালুর ফতোয়া মেনে দগ্ধ হয়ে এসেছে ত্বীন-
জৈতুনের প্রাণ, সে এখন মুক্ত-তার লেজে বসন্তের বিলবোর্ড।
তবে ঝড়ের মোজেজায় এখনো ওড়ে বোদলেয়ারের
কবিতার মতো ঝড়োত্তর পরাবাস্তবতার ধুলো ও ধোঁয়া
শুকানো লোহুর গন্ধে বিভ্রান্ত বাউকুড়ানি;
ঠিক যায় না বোঝা বেড়ালের লেজে লেজে ছড়িয়ে
যাচ্ছে কি না বসন্তের রঙ ব্যাপক প্রাণের বঞ্চনার গভীরে।
এবং স্বপ্নের উপত্যকায় যুদ্ধোপূর্ব ইস্তেহারের মতো
যদি গড়ে ওঠে প্রস্ফুটিত বাগান, কে নেবে তার ফুল ও ফল-
মরুভূর উজ্জীবিত হাত, নাকি হাওয়ার হাঙর-
এমত ভাবনাকে পাত্তা না দিয়ে- দেশে দেশে
মুক্ত বেড়ালের পক্ষেই মুখরিত হয়ে উঠেছে হাততালি।
ভালোবাসা কোনো সুবিধাবাদী রাজনীতি নয়
অথচ তুমি সবুজঘাসে পা নামিয়েই ভুলে যাও ঝঞ্ঝাতাড়িত ঢেউবেলা!
আমার লবণে দোল খায় বঙ্গোপসাগরের ঘ্রাণ
আর তুমি চান্স পেলেই বিশ্বব্যাংকের মালিশ নাও;
আমার তন্দ্রা এলেই সুদখোরের আখড়ায় মৌ জমে ওঠে কেন,
সেকথাও তো আমাকে ভাঙে! আমি আড়াল হলেই
বেড়াগুলো কদমগাছ হয়ে ওঠে অথচ আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে নাকো-
এমন অভিব্যক্তি ছড়িয়ে রাখো অনুগত বাতাসে।
হে আমার স্বপ্নের সাথি-তুমি কি জানো না-
নষ্টজোটের লোভের সাফল্যে ভালোবাসা কোনো সুবিধাবাদী রাজনীতি নয়?
সবুজ সিগন্যাল
মুকুট পরিয়ে দিয়ে অমন যে তালি দিচ্ছো তুমি আর
বহুবর্ণ প্ররোচনায় ওই হাতেই তুলে দিচ্ছো
প্রত্নরঙা সভ্যতার সিন্ধুকের চাবি-
একবার ভেবেছো কি-
এ কোন লেহনে আজ মুছে যায় সোনার অক্ষর?
আর এ কোন আজব ঢলে ভেসে যায়-
সোনালি বোঝাইসহ পৌরাণিক নাও?
অথচ এসেছি শুনে- তোমারি ড্রয়িং রুমে
ত্রিকালের এইচএমভি;
তাহলে বলো না কেন-
আমরা এখনো যারা জীবনের অনুকূলে দরজা ধরে আছি-
কোথায় তাদের সেই প্রপিতামহগণের বাণীর বিভাগ,
আর কোথায় তোমার সেই সেলুলয়েডের সূক্ষ্ণ ফিতার বান্ডিল?
প্রত্নহৃদয়টা নিয়ে বিভ্রান্তির চৌরাস্তায়
উজ্জ্বর সূর্যের নিচে আমরা দাঁড়িয়ে,
হুর রে বলে ধুলো উড়োয় হাওয়ার উজানে থাকা হাত;
হে সময়! হে মহাকালের জীব্রাইল!
ধূসর দৃষ্টান্তযোগে তুমি কেন দেখাও নাকো সবুজ সিগন্যাল?
ডায়াগনোসিস আফটার অপারেশন
রাতদিন অতঃপর দূষণেই বাঁচা; মানবতা এইসব ধুলোমাখা বাণী-
শোনামাত্র দেহমনে বিবিধ এলার্জি! আর কোনো ঔষধ মেলে না।
ব্যর্থকাম একে একে ক্যাপসুল, ট্যাবলেট, নামিদামী যতসব তরলের
ডোজ; দুদকের মালিশেও সারে না বেমার! ফলে দেশ-দেশান্তরে
বুশের ইচ্ছার মতো রোগের বিস্তার; পৃথিবী সুসভ্য বলে এভাবে
চলে না! অতএব উচ্চমূল্য মেডিকেল বোর্ড; উচ্চকিত মতভেদ
তথাপি সিদ্ধান্ত-ছুরিকর্ম একমাত্র অবিকল্প পথ। শেষে মিত্রবাহিনীর
মতো কৃতকার্য ছুরিকাম; অথচ আশ্চর্য! আলসার টিউমার মূত্রাশয়ে
অশ্মরী কোনোটাই নয়! চেরাপেটে পাওয়া গেছে সারমেয় লেজ!
পরীক্ষায় দেখা গেছে শুরুতে চিকন ছিল-পশম যেমন; দিনে দিনে
কুন্ডলিত-ফাইনালে লাঙ্গুল-আকৃতি। আর কোণঠাসা সততার মতো
হৃদয়টা নেমে গেছে কিডনির দিকে; (আহা রে সততা! আহা কিডনি!)
সে-সুযোগে সাম্রাজ্যবাদীর মতো ড্রাইভিং সিটে বসে কুন্ডলিত লেজ!
লালন–সূত্র
শীতের বৃষ্টির মতো সন্ধ্যা নেমেছিল বলে
পারঘাটাতেই ফুরিয়েছিল অর্ধপথের আয়ু;
আমি জানি-প্রাক্সন্ধ্যার সমস্ত ঐশ্বর্য নিয়ে
দাঁড়িয়েছিলে তুমি;
তোমার চোখে প্রেষণে ছিল
চোরের চোখের আলো;
রক্তিম রোদের স্রোতে কূলভাঙা ঢেউ তুলে
ঘরছাড়া দৃষ্টি বহুবার আছড়ে পড়েছিল
দিগন্তের দেয়ালে;
প্রশ্নবিদ্ধ প্রাচীন প্রথার মতো কেঁপে উঠেছিল
আহ্নিকগতির রথ; আসলে আমিই আড়ালে ছিলাম।
আর সুবেসাদেকের আভা মেখে-
ইয়াজুজ-মাজুজের ক্ষুধা নিয়ে
যখন আমি দেয়াল ভেঙে দুয়ারের কাছাকাছি-
আমার পদশব্দের প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
ধ্বনিত তোমার অক্ষমতার গোঙানি: আর এসো না!
বাংলাবাঁক 
