শরতে লেখা কবিতা
শপিং মলে আয়নায় তোমার টি শার্ট
ঠিক করে দিচ্ছে সুন্দরী হাত
কাঁধের উপর দীর্ঘ নেল রঙিন পালিশে
আরো কিছুক্ষণ থাকলে
তার আগেই হাতে উঠে আসে ট্রাউসার
খুলে যায় ট্রায়াল রুম
তুমি বদলে গেলে বোঝা যায়
এখানে কোনো ছাড় নেই
স্পর্শ থেকে স্পর্শের ভিতরে
দেবযানী শর্মিষ্ঠা যযাতি কাহিনী
তোমার গ্রামে নীলকন্ঠ পাখি উড়ে
এসেছিল সে সময় আকাশ ভেলায়
সানাইবাদক রোশন চৌকিতে
জঙ্গল কথা
এ পাড়া বাঘ মুক্ত নয়
কঠিন স্বরে ক্যানেস্ত্রা বাজে
আর ক্রমশ নখ বড় হয়ে যায়
শিকারী ও শিকার এক হয়ে গেলে
জঙ্গলরাজ জমে ওঠে
পান পাত্র উচ্ছ্বসিত হয় চাঁদের
আলোর বিপরীতে সরে যাচ্ছে
একটি অন্ধকার বিড়ালদেহ
মর্জিনা জানে কাল না কাল
নদীর খিদে বেড়ে যাবে
তার উনুনে ভুট্টা পুড়তে থাকে
নরম অংশগুলি কালো কিন্তু সুস্বাদু
তবুও বাঘের মর্জি
প্রকাশ্য দিবালোকে এই যে হত্যা হল
সেই অদৃশ্য ঘাতকের প্রতি
ব্লেক হয়তো লেখে দুই সত্বার কথা
মাচার লাউটিতে ছুরি চালিয়ে
ছুরির ধার ব্যবহার করে নিতেই হয়
নইলে
আত্মরক্ষা শব্দটি কঁকিয়ে ওঠে
অনুভবের স্বরলিপি
মধ্যরাতের সঙ্গে আলাপ
চলে বহুক্ষণ
মাঠের ওপারের বাড়ির আলো
নিভে গেলেও কিছুক্ষণ অন্ধকারের
মুখোমুখি দাঁড়াই
বড়ো শান্ত স্নিগ্ধ এ আঁধার
দিনের আলোর তীব্রতা নেই
জড়িয়ে ধরেছে যেই
মুক্তি পিপাসু আর নই
দু চোখের কাজের সময় শেষ
দীর্ঘ দরজা বন্ধ হবার সময়
কোনো নচিকেতা জাগে না ভিতরে
গালিচা নির্মাণ
গালিচার কবিতা বুনতে বুনতে
গালি না চা মুখে গালিব এলো
গলির কাছে পানের দোকানে
গলিত কিছু লাল করে রেখেছে
দেয়াল তাকে তুমি দেয়ালচিত্র
বললে সে আরো ছড়িয়ে যায়
বিচিত্র ভঙ্গিমায় এবং ভঙ্গিটি
মার কথা মনে এনে মেঘলা
ঘোলা জল থেকে মাছ তুলে
আশ্চর্য এক কাচের ঘরে প্রবাল
প্রাচীর প্রাচী সিনেমাহলের আটকে
পড়া দিনটির কথা মনে করিয়ে
দেয়
আত্মহত্যা চিন্তার আগে
মাথা রাখা জানালার ট্রেনে
দেশগ্রাম হারিয়ে হারিয়ে ঘুমে
আর স্বপ্নের কী বিশাল শ্বাস
যেন আপসোস ভাঙছে শরীর
আর থেকে থেকে সাইরেনের
উপর চাকারা ছুটতে থাকে
হঠাৎ রেনি ডে ঘোষণার পর
রাস্তায় বৃষ্টিস্কুল আর রেনবো
মিছিল
মনখারাপের গজল যা গেয়েছিল
ডিপ্রেশন তোমার মাথার সাথে
সেও ঘুমিয়ে আর এখন লাফ
ইচ্ছার হেসে নিচ্ছে নিছক জোকে
মাচো মাচো যুবকের পাশে স্টেশন
মেচেদায়
বাংলাবাঁক 
