বাঁশেরকেল্লার তিতুমীর
এম এ ওয়াজেদ
আমাদের আজাদির পুষ্পদ্বারে দাঁড়িয়ে ছিলো
পশ্চিমা বাতাসের নিষিদ্ধ কেশগুচ্ছ মাংসাশী কীট
রসায়নশাস্ত্রের প্রমোদকাননে তৃণভোজী সরসতায়
ওরা ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলে আনারফলের রসালো দানা
ততদিনে খসে পড়েছে মুঘল হেরেমের অসুখী জানালা
দাসরেণু শওকত জঙ্গ কেলিকুঞ্জিকার পেটিকোট ধরে
শুয়ে আছে কালিদাসের মেঘদূতচিঠির উত্তর প্রতিক্ষায়
ফাঁসির রশি পাশে জল্লাদের সাথে পায়চারি করে
সম্রাট নীরোর দাসত্বদাসী শাহজাদি ঘসেটি বেগম
ভারতবর্ষের চক্ষুযুগল ভিজে যায় বিষণ্ণ অশ্রুহীনতায়
ভাগীরথী নদীর রক্তমাখা কামিজের সেলাইগুলো থেকে
ঝরে ঝরে পড়তে থাকে অশ্রুবিলাপের রক্তপ্রোফাইল
যৌনবতী কাবেরী নদীর খুলে পড়ে কুসুমশয্যার নাকফুল
বেদনার কুসুমকোরক পরিধান করে বিধবার শ্বেতবাস
অতিকায় দানবমুখ ছিঁড়ে ফেলে বসন্তকোকিলের কণ্ঠস্বর
সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে পরিযায়ী সুখবাদী মুখগুলো-
আছড়ে ফেলে ভাগ্যতিথির গর্ভজাত প্রাণবাদী জিলেটিন
হে মাতাল ক্যাসিনোর অপ্রতিরোধ্য জুভেন্টাস-
ভারতবর্ষের গৃহপালিত শরীর ভুলে গেছে ক্রান্তিবলয়
ওই শোনো ফিরিঙ্গী রবার্ট ক্লাইভের সামন্তিক অট্টহাসি
গিরিমাটির চাপা আর্তনাদ ছুঁয়ে ফেলে সভ্যতার কণ্ঠনালি
গৌরবর্ণ পিত্তরসে বন্ধ্যা হয় নৃবিজ্ঞানের কুমারী পল্লবী
আমাদের প্রজন্মপরাগের পতনোন্মুখ ব্যথিত তানপুরা
পড়ে থাকে যন্ত্রণাকাতর তানসেনের শীতার্ত শবাধারে
নক্ষত্রশূন্য ভারতাকাশ ছেয়ে যায় তিমিঙ্গিল গন্ধমুখে
তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়ে সন্দেহবাদী পেশ ইমাম
প্রার্থনা করেছিলো তিমিরাবৃত বিপদমুক্তির খাস দোয়া
শুষ্কস্তনবতী বিধবা রমণী জেনে যায়-
সন্দেহবাদী ইমামের দোয়া শহীদ হয়েছে রক্তবালাকোটে
সিপাহী বিদ্রোহের ব্যর্থ মুখগুলো ঝুলে থাকে ফাঁসরশিতে
হে ভারতবর্ষের দুর্দশাগ্ৰস্ত অনাদরা হৃৎস্পন্দন-
ওই দ্যাখ আত্মবাদী সৈয়দ নিসার আলী নিঃসঙ্গ তিতুমীর
তোমার শরীরে বিছিয়ে দিয়েছে পুষ্পসুবাসের বাঁশকেল্লা
এই ভূখণ্ডের অমাবস্যাতিথির দেয়ালপঞ্জিকায়-
এনে দিতে চায় আলোকসজ্জার বাসন্তিক স্বর্ণ-উৎসব
বাঁশেরকেল্লার সেই তিতুমীরকে এসো আজ পাঠ করি
বাংলাবাঁক 








