আমাদের বিজয়, আমাদের করণীয়
আবু আফজাল সালেহ
আমাদের প্রধানতম অর্জন হচ্ছে স্বাধীনতা-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করা। ছাত্র, শিক্ষক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনতার স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ অসাধ্য বিজয় অর্জনে সক্ষম হয়েছি। কবিদের জোরালো উচ্চারণ সহায়কের ভূমিকা পালন করেছে। তাদের অনেকের উচ্চারণ ছিল রক্তজবার মতো প্রোজ্জ্বল, ফলার মতো তীক্ষè। স্বাধীনতা যে আমাদের মধ্যমণি কিংবা অস্তিত্ব তার প্রমাণ পাই শামসুর রাহমানের কবিতাতেও :
‘স্বাধীনতা তুমি
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা’।
বিজয়কে সুসংহত করতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তারুণ্যকে আনন্দ দিতে পারলেই বিজয়ের প্রকৃত স্বাদ পাবো। তরুণদের পথচলা হোক আনন্দে। ব্যর্থতায়, সম্ভব নয়। তারুণ্যশক্তিকে অলস করে রাখলে দেশ ও জাতির জন্য হিতকর হবে। শিল্পায়নে অগ্রগতি, কৃষিখাতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি, চর, বরেন্দ্র,কিংবা বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। ওষুধে ভেজাল বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও সহজলভ্য করার জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রাধিকার দিতে হবে। উচ্চশিক্ষায় গবেষণার জন্য বরাদ্দ ও তদারকি বাড়াতে হবে। বিদেশি-পরিকল্পনা না-গ্রহণ করে তা রূপান্তরিত ও স্থানীয়-পরিবেশ-বান্ধব করে এগিয়ে যেতে হবে। কৃষিকে সামনে রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনা ফলপ্রসু হবে। আমেরিকান কবি হুইটম্যান। তিনি গণতন্ত্রকামী কবি। তিনি আমেরিকানবাদের মধ্যে সব শ্রেণির মানুষকে আপন ভেবেছেন। বাঙালিরার স্বাধীনতা-সংগ্রামের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল কিছু বাদে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিজয়কে সুসংহত ও কার্যকরী করতে হলে যার যার অবস্থান থেকে সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বায়ু বা পানি কিংবা আলো দূষণ থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচানোর কার্যকরী ও সাহসী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও তা আন্তরিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ভবিষ্যত-প্রজন্মের জন্য উন্নতর অবস্থান রেখে যেতে হবে। তরুণদের জন্য পথ ছেড়ে দিতে হবে। তাদের জন্য পথ আটকানোর পুরাতন অথচ চালাকি উদ্যোগ গ্রহণ না-করে তরুণদের জন্য পথ খোলা রাখতে হবে। চব্বিশ অভ্যুত্থান তরুণদের কার্যকরিতা দেখিয়ে দিয়েছে। বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর কিংবা স্বৈরাচার এরশাদ পতনে তরুণরাই সামনের সারিতে ছিল। এখন, তাদেরকে কাজে লাগাতে হবে।
বিজয় সবার হোক। সব পেশার কিংবা সব সম্প্রদায়ের জন্য কল্যাণকর। রাজনীতি কিংবা অর্থনীতি কিংবা পরিচালনায় নারী ও পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। সবাই মিলে বৈষম্যহীন কিংবা অসাম্প্রদায়িক-চেতনায় লালিত হয়ে উঠি বাংলাদেশি। স্বাধীনতার দুর্বার চেতনা বহিঃশক্তির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে পারব। বিজয়ের স্বপ্ন যেনো হাতে ধরা দেয়।
বাংলাবাঁক 










