ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আবু আফজাল সালেহ

আমিনুল ইসলাম : স্নিগ্ধ কবি

  • বাংলাবাঁক
  • আপডেট : ১১:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
  • 384

আমিনুল ইসলাম : স্নিগ্ধ কবি

আবু আফজাল সালেহ

 

বেহুলার প্রেম, তিতুমিরের তেজ,

মাটিতে মিশে আছে

প্রীতিলতার প্রাণ, জাহাঙ্গীরের যৌবন

[আছে সংগ্রামআছে ভালোবাসা/আমিনুল ইসলাম]

আমিনুল ইসলামের কবিতায় গেইলের টি-টুয়েন্টি ইনিংসের মতো মার-মার কাট-কাট নয়। ব্রায়ান লারার টেস্ট ইনিংসের মতো স্নিগ্ধতার পরশ দেয় আমিনুল ইসলামের কবিতা। আলতো করে কব্জির মোচড় দিয়ে  লারা যেমন বলকে সীমানা পার করে দেন ঠিক তেমনই আমিনুল ইসলাম তাঁর কবিতাকে স্নিগ্ধপরশে পাঠকের কাছে ধরিয়ে দেন। এরপর উন্মাতাল সমর্থকের মতো আবেশ ছড়িয়ে দেয় কবিতাগুলি। কবিতাগুলি ব্যাপিত হতে থাকে চক্রাকারে। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহের আগুন আছে, তবে চাপা দেওয়া আছে ঢেউটিনে।

কখন তুমি আকাশ হলে/অন্ত্যমিলের মোহনায়/ঢেউয়ের কাছে জেনে দেখি/ নদীর কোনো দ্রোহ নাই [প্রেমের কবিতা/আমিনুল ইসলাম]। আমিনুল ইসলামের কবিতার নারীরা নদী হয়ে কথা বলে।

শরতের আকাশ হয়ে বসে থাকি

সকলি যায়সকলেই যায়

আমাকে ঘিরে থাকে

শ্রাবণের ট্রেন

ফেল করা একগুচ্ছ কেয়াপাতার চিঠি’  

[শরতের ট্রেন শ্রাবণের লাগেজ]

কিংবা—

‘বৃদ্ধার স্তনের উপমায়

ফালগুনের সব নদী;

শুধু তোমার চুল জড়িয়ে

শ্রাবণের এক যমুনা।’

[নদী ও খালের গল্প/ শেষ হেমন্তের জোছনা]

‘চিঠির উত্তর দাও বা না দাও, ভালো তো বাসোই/ মুখে ‘না’ ‘না’ শব্দ নিয়ে গাল পেতে দাও–/ আমার তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের সামনে [চুম্বন নিয়ে লেখা যে কবিতার সকল চরিত্র কাল্পনিক/ আমিনুল ইসলাম]—কী স্নিগ্ধতার প্রেমের বাণী। মনে হয় আমিই প্রেমিক! আমিনুল ইসলামের প্রেমের কবিতা ভালোবাসার রঙ ছড়িয়ে দেয় বাতাসে, আকাশে—সেগুলো পরে বর্ণালি হয়ে ওঠে। তাঁর ভালোবাসার কবিতাগুলি হয়ে ওঠে এক-একটি তাজমহল-যমুনা। সব মিলিয়ে দৃশ্যে কিংবা সুবাসে হয়ে ওঠে নন্দনকানন। আমিনুল ইসলাম লক্ষ করলেন নারীর স্নিগ্ধতা, শান্তি ও সৌন্দর্য। ‘ফ্রয়েডীয় রাস্তার বেণীমাধব মোড়ে (হে শ্যামাঙ্গী অধ্যাপিকা)’, ‘নষ্টামির সার্বভৌমত্ব ফেলে– নত হয় তোমার মিনারে (মুকুটহীনা)’, ‘একদিন বরেন্দ্রের ভাতের সুঘ্রাণে (সরল অভিজ্ঞান)’ ইত্যাদির মতো চিত্র/চিত্রকল্প পাঠককে প্রেমের কাঙাল করে তোলে। কবি আমিনুল ইসলাম কবিতাসাহিত্যে একটি চিরন্তন প্রিয়তমা (Eternal she) সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর কবিতায় নারী সংবেদনশীল, শরীর নিয়ে কথা হলেও তা ধরাছোঁয়ার বাইরে, রক্তমাংসের বাস্তবনারী নয়। তাঁর নায়িকারী মূলত সৌন্দর্য-বিলাসী কিন্তু দেহতাতীত। দেবসুলভ সৌন্দর্য লক্ষ করা যায়। অনির্দিষ্ট প্রেমের প্রতি প্রবল অনুরাগ:

‘আমি একটি নদী কিনতে পারি

কিন্তু তাতেই খালি হয়ে যায় পকেট;

তোমার কাছে যা আছে তা দিয়ে তুমি একটা

পাহাড় কিনতে পারো–

কিন্তু তার বেশি কিছু নয়;

অতএব এসো, আমরা দুজনে মিলে

একটা পাহাড় এবং একটি নদী কিনে ফেলি;

তখন সমুদ্রটা ফ্রি পেয়ে যাবো’

[আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসবো, কেন ?/আমিনুল ইসলাম ]

আমিনুল ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কিংবা ভৌগলিক কবিতাগুলি ঘুমপাড়ানির গল্প শোনায়। তবে, ঘুমপাড়ানি গল্পের মতো নিছক নয়—আছে ভূগোলের কিংবা ইতিহাসের প্রকৃত-কাহিনি। তাঁর কবিতার ইতিহাস-ঐতিহ্য কিংবা ভূগোলের জ্ঞ্যান কিংবা উপলব্ধির প্রয়োগ কবিতাগুলিকে করেছে সমৃদ্ধ। নানা অবিচার কিংবা অনাচারে কবিতাগুলি হয়েছে বোধ-জাগ্রতের আধার। কখনো প্রহসন কখনো হাস্যরসাত্বক ভঙ্গি উদ্দেশ্যের ঠিক যথার্থস্থানে পাঠককে নিয়ে যায়। স্যাটায়ার কবিতাগুলি অন্যায়কারীর বুকে শেল বিদ্ধ করে দিতে সক্ষম। কবির ইচ্ছেশক্তির কথাগুলি অবলীলায় বলে দেন। গভীরে পৌঁছে দেয় বার্তাগুলি। কিন্তু ভাষা ও চিত্রকল্প কিংবা প্রতীকগুলি গড়ে ওঠে স্নিগ্ধতার পরশে। আমিনুল ইসলামের  দুটি কিবিতাংশ তুলে ধরি।

(১) মাই লর্ড, ইওর অনার,
ব্যর্থতা কি শুধুই আমার!
পায়ের কাছে বঙ্গোপসাগরের অফুরন্ত রিজার্ভ
কিন্তু আকাশ কি পারে
শ্রাবণের ঝারি দিয়ে
মুক্ত করতে শীতলক্ষ্যাকে দূষণের গ্রাস থেকে?’
[ব্যর্থতার প্রেসনোট]

(২) ‘হাজার বছর ভাসা প্রত্নারাঙা—লখিন্দরের লাশ

ডুবে যায়—

গাঙুরের জল ছেড়ে

প্রযোজিত ফোরকালার বালুর মোহনায়;

হায় প্রযোজনা! হায় বালুর বাহার।‘

[বেহুলা বিশ্ববিদ্যালয়/ জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার]

আমিনুল ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য-ভূগোল ইত্যাদির আবহ কিংবা চিত্রকল্প পাঠকের মানসে ভেসে ওঠে যথার্থ ছবি। ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র ছবি মিলিয়ে কখনো হয়ে ওঠে বড় একটি চিত্রকর্ম। সেখানে শব্দগুলি হয়ে ওঠে বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন অবয়বের। মূর্ত হয়ে ওঠে মানসপটে। মানসপটে চিত্র সৃষ্টির ক্ষমতা আমিনুল ইসলামের কবিতার একটি বড় গুণ। এই দক্ষতার উপরই কবি কিংবা কবিতার কালজয়ী হওয়ার অন্যতম প্রধান উপায়। আমিনুল ইসলামের কবিতার এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা তাঁকে ‘স্নিগ্ধকবি’ হতে আপত্তি করবে না। বরং জোরালো আবেদনই করবে—আমিনুল ইসলাম—স্নিগ্ধতার কবি কিংবা স্নিগ্ধ কবি।

‘আমিনুল ইসলামের কবিতা
টেস্ট ইনিংসের মতো ধ্রুপদি
ব্রায়ান লারার কবজিমোচড়ানো দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং
আর সচিন টেন্ডুলকারের স্ট্রেইটকাট
পাঠককে বলে তোমার কাছে যাচ্ছি, বলে ভালোবাসি।

তাঁর কবিতা কৃষ্ণচূড়ার মতো উজ্জ্বলমোলায়েম
ভাষা নদীর মতো প্রবাহিত
এভিনিউয়ের মতো সুশৃঙ্খলিত
নায়াগ্রা জলপ্রপাতের স্নিগ্ধতা
মনের শান্তি, চোখের সুখ।

তাঁর ভূগোলপ্রেম বিশ্বপরিচয়
তাঁর ইতিহাসঐতিহ্য সমৃদ্ধময় বিশ্বজাদুঘর
তাঁর বোধ সীমাহীন অতলান্তিক।

তাঁর প্রেমের কবিতা পাহাড়ের গায়ে হিজলফুলের মতো ঝোলানো
নিচে ঝরনা, উড়ন্ত একজোড়া টিয়া
নতুন বর্ষার সবুজে রক্তজবার উল্লাস
স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় অসংখ্য প্রেমিক
প্রেমিকার সোনালি কাবিন।

তাঁর কবিতা মেঘ ভেঙেআসা হঠাৎই সূর্যের ঝলক
আশার কাঙ্খিতআলো
বখতিয়ারের ঘোড়া, ফিনিক্স পাখি
নীলনদের তীরের নতুন জনপদ
সাঙ্গুর চোখজুড়ানো স্নিগ্ধতা
চাঁদপুরের মোহনার মতো বহুমূখী বিস্তৃতি
স্নিগ্ধতা, স্নিগ্ধতা আর স্নিগ্ধতা
শুধুই স্নিগ্ধতা

[ আমিনুল ইসলাম : স্নিগ্ধতার কবি / আবু আফজাল সালেহ ]

জনপ্রিয় পোস্ট

আবু আফজাল সালেহ

আমিনুল ইসলাম : স্নিগ্ধ কবি

আপডেট : ১১:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

আমিনুল ইসলাম : স্নিগ্ধ কবি

আবু আফজাল সালেহ

 

বেহুলার প্রেম, তিতুমিরের তেজ,

মাটিতে মিশে আছে

প্রীতিলতার প্রাণ, জাহাঙ্গীরের যৌবন

[আছে সংগ্রামআছে ভালোবাসা/আমিনুল ইসলাম]

আমিনুল ইসলামের কবিতায় গেইলের টি-টুয়েন্টি ইনিংসের মতো মার-মার কাট-কাট নয়। ব্রায়ান লারার টেস্ট ইনিংসের মতো স্নিগ্ধতার পরশ দেয় আমিনুল ইসলামের কবিতা। আলতো করে কব্জির মোচড় দিয়ে  লারা যেমন বলকে সীমানা পার করে দেন ঠিক তেমনই আমিনুল ইসলাম তাঁর কবিতাকে স্নিগ্ধপরশে পাঠকের কাছে ধরিয়ে দেন। এরপর উন্মাতাল সমর্থকের মতো আবেশ ছড়িয়ে দেয় কবিতাগুলি। কবিতাগুলি ব্যাপিত হতে থাকে চক্রাকারে। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহের আগুন আছে, তবে চাপা দেওয়া আছে ঢেউটিনে।

কখন তুমি আকাশ হলে/অন্ত্যমিলের মোহনায়/ঢেউয়ের কাছে জেনে দেখি/ নদীর কোনো দ্রোহ নাই [প্রেমের কবিতা/আমিনুল ইসলাম]। আমিনুল ইসলামের কবিতার নারীরা নদী হয়ে কথা বলে।

শরতের আকাশ হয়ে বসে থাকি

সকলি যায়সকলেই যায়

আমাকে ঘিরে থাকে

শ্রাবণের ট্রেন

ফেল করা একগুচ্ছ কেয়াপাতার চিঠি’  

[শরতের ট্রেন শ্রাবণের লাগেজ]

কিংবা—

‘বৃদ্ধার স্তনের উপমায়

ফালগুনের সব নদী;

শুধু তোমার চুল জড়িয়ে

শ্রাবণের এক যমুনা।’

[নদী ও খালের গল্প/ শেষ হেমন্তের জোছনা]

‘চিঠির উত্তর দাও বা না দাও, ভালো তো বাসোই/ মুখে ‘না’ ‘না’ শব্দ নিয়ে গাল পেতে দাও–/ আমার তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের সামনে [চুম্বন নিয়ে লেখা যে কবিতার সকল চরিত্র কাল্পনিক/ আমিনুল ইসলাম]—কী স্নিগ্ধতার প্রেমের বাণী। মনে হয় আমিই প্রেমিক! আমিনুল ইসলামের প্রেমের কবিতা ভালোবাসার রঙ ছড়িয়ে দেয় বাতাসে, আকাশে—সেগুলো পরে বর্ণালি হয়ে ওঠে। তাঁর ভালোবাসার কবিতাগুলি হয়ে ওঠে এক-একটি তাজমহল-যমুনা। সব মিলিয়ে দৃশ্যে কিংবা সুবাসে হয়ে ওঠে নন্দনকানন। আমিনুল ইসলাম লক্ষ করলেন নারীর স্নিগ্ধতা, শান্তি ও সৌন্দর্য। ‘ফ্রয়েডীয় রাস্তার বেণীমাধব মোড়ে (হে শ্যামাঙ্গী অধ্যাপিকা)’, ‘নষ্টামির সার্বভৌমত্ব ফেলে– নত হয় তোমার মিনারে (মুকুটহীনা)’, ‘একদিন বরেন্দ্রের ভাতের সুঘ্রাণে (সরল অভিজ্ঞান)’ ইত্যাদির মতো চিত্র/চিত্রকল্প পাঠককে প্রেমের কাঙাল করে তোলে। কবি আমিনুল ইসলাম কবিতাসাহিত্যে একটি চিরন্তন প্রিয়তমা (Eternal she) সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর কবিতায় নারী সংবেদনশীল, শরীর নিয়ে কথা হলেও তা ধরাছোঁয়ার বাইরে, রক্তমাংসের বাস্তবনারী নয়। তাঁর নায়িকারী মূলত সৌন্দর্য-বিলাসী কিন্তু দেহতাতীত। দেবসুলভ সৌন্দর্য লক্ষ করা যায়। অনির্দিষ্ট প্রেমের প্রতি প্রবল অনুরাগ:

‘আমি একটি নদী কিনতে পারি

কিন্তু তাতেই খালি হয়ে যায় পকেট;

তোমার কাছে যা আছে তা দিয়ে তুমি একটা

পাহাড় কিনতে পারো–

কিন্তু তার বেশি কিছু নয়;

অতএব এসো, আমরা দুজনে মিলে

একটা পাহাড় এবং একটি নদী কিনে ফেলি;

তখন সমুদ্রটা ফ্রি পেয়ে যাবো’

[আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসবো, কেন ?/আমিনুল ইসলাম ]

আমিনুল ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কিংবা ভৌগলিক কবিতাগুলি ঘুমপাড়ানির গল্প শোনায়। তবে, ঘুমপাড়ানি গল্পের মতো নিছক নয়—আছে ভূগোলের কিংবা ইতিহাসের প্রকৃত-কাহিনি। তাঁর কবিতার ইতিহাস-ঐতিহ্য কিংবা ভূগোলের জ্ঞ্যান কিংবা উপলব্ধির প্রয়োগ কবিতাগুলিকে করেছে সমৃদ্ধ। নানা অবিচার কিংবা অনাচারে কবিতাগুলি হয়েছে বোধ-জাগ্রতের আধার। কখনো প্রহসন কখনো হাস্যরসাত্বক ভঙ্গি উদ্দেশ্যের ঠিক যথার্থস্থানে পাঠককে নিয়ে যায়। স্যাটায়ার কবিতাগুলি অন্যায়কারীর বুকে শেল বিদ্ধ করে দিতে সক্ষম। কবির ইচ্ছেশক্তির কথাগুলি অবলীলায় বলে দেন। গভীরে পৌঁছে দেয় বার্তাগুলি। কিন্তু ভাষা ও চিত্রকল্প কিংবা প্রতীকগুলি গড়ে ওঠে স্নিগ্ধতার পরশে। আমিনুল ইসলামের  দুটি কিবিতাংশ তুলে ধরি।

(১) মাই লর্ড, ইওর অনার,
ব্যর্থতা কি শুধুই আমার!
পায়ের কাছে বঙ্গোপসাগরের অফুরন্ত রিজার্ভ
কিন্তু আকাশ কি পারে
শ্রাবণের ঝারি দিয়ে
মুক্ত করতে শীতলক্ষ্যাকে দূষণের গ্রাস থেকে?’
[ব্যর্থতার প্রেসনোট]

(২) ‘হাজার বছর ভাসা প্রত্নারাঙা—লখিন্দরের লাশ

ডুবে যায়—

গাঙুরের জল ছেড়ে

প্রযোজিত ফোরকালার বালুর মোহনায়;

হায় প্রযোজনা! হায় বালুর বাহার।‘

[বেহুলা বিশ্ববিদ্যালয়/ জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার]

আমিনুল ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য-ভূগোল ইত্যাদির আবহ কিংবা চিত্রকল্প পাঠকের মানসে ভেসে ওঠে যথার্থ ছবি। ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র ছবি মিলিয়ে কখনো হয়ে ওঠে বড় একটি চিত্রকর্ম। সেখানে শব্দগুলি হয়ে ওঠে বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন অবয়বের। মূর্ত হয়ে ওঠে মানসপটে। মানসপটে চিত্র সৃষ্টির ক্ষমতা আমিনুল ইসলামের কবিতার একটি বড় গুণ। এই দক্ষতার উপরই কবি কিংবা কবিতার কালজয়ী হওয়ার অন্যতম প্রধান উপায়। আমিনুল ইসলামের কবিতার এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা তাঁকে ‘স্নিগ্ধকবি’ হতে আপত্তি করবে না। বরং জোরালো আবেদনই করবে—আমিনুল ইসলাম—স্নিগ্ধতার কবি কিংবা স্নিগ্ধ কবি।

‘আমিনুল ইসলামের কবিতা
টেস্ট ইনিংসের মতো ধ্রুপদি
ব্রায়ান লারার কবজিমোচড়ানো দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং
আর সচিন টেন্ডুলকারের স্ট্রেইটকাট
পাঠককে বলে তোমার কাছে যাচ্ছি, বলে ভালোবাসি।

তাঁর কবিতা কৃষ্ণচূড়ার মতো উজ্জ্বলমোলায়েম
ভাষা নদীর মতো প্রবাহিত
এভিনিউয়ের মতো সুশৃঙ্খলিত
নায়াগ্রা জলপ্রপাতের স্নিগ্ধতা
মনের শান্তি, চোখের সুখ।

তাঁর ভূগোলপ্রেম বিশ্বপরিচয়
তাঁর ইতিহাসঐতিহ্য সমৃদ্ধময় বিশ্বজাদুঘর
তাঁর বোধ সীমাহীন অতলান্তিক।

তাঁর প্রেমের কবিতা পাহাড়ের গায়ে হিজলফুলের মতো ঝোলানো
নিচে ঝরনা, উড়ন্ত একজোড়া টিয়া
নতুন বর্ষার সবুজে রক্তজবার উল্লাস
স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় অসংখ্য প্রেমিক
প্রেমিকার সোনালি কাবিন।

তাঁর কবিতা মেঘ ভেঙেআসা হঠাৎই সূর্যের ঝলক
আশার কাঙ্খিতআলো
বখতিয়ারের ঘোড়া, ফিনিক্স পাখি
নীলনদের তীরের নতুন জনপদ
সাঙ্গুর চোখজুড়ানো স্নিগ্ধতা
চাঁদপুরের মোহনার মতো বহুমূখী বিস্তৃতি
স্নিগ্ধতা, স্নিগ্ধতা আর স্নিগ্ধতা
শুধুই স্নিগ্ধতা

[ আমিনুল ইসলাম : স্নিগ্ধতার কবি / আবু আফজাল সালেহ ]