হে গৌড়ের জ্ঞানবরেষু বরেন্দ্রিক কবি
এম এ ওয়াজেদ
সম্মোহনের রোমান্টিক পরশপাথরের বর্ণচ্ছটা
বিচ্ছুরিত হয় তোমার ঐতিহ্যিক অন্তর্দৃষ্টির রহস্যময়তায়
অশ্রুর ব্যথিত সংগীত মনোগ্রাহী উচ্ছলতায়
খুঁজে পায় জাতিসত্তার আত্মার নিবাস
অন্ধকারের কেন্দ্রাতিগ অশুভশক্তির দীর্ঘদেহী অপচ্ছায়া
অন্তর্নিহিত অচৈতন্যের বিকারগ্রস্ত মেরুদণ্ডহীন অনুভূতি
তোমার সৌন্দর্যতত্ত্বের মানবিক বন্দরে
আজো খুঁজে ফিরে ধ্যানমগ্নতার কুমারী বসন্তকাল ।
তোমার অসম্ভব কবিকল্পনার কুয়াশার বর্ণমালা
হেসে উঠে বসন্তের জোছনা আলোয়
মনুষ্যবিহীন কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক
মর্ত্যলোকে ফিরে আসে তোমার কবিতার সঙ্গী হবে বলে
মানবপ্রজাতির বৈশ্বিক অস্থিরতার শরণার্থী নিদ্রালয়ে
তারা ভুলে গিয়েছিল
শরতের ট্রেন শ্রাবণের লাগেজ
অথবা জোছনার রাত বেদনার বেহালা
তোমার হৃদয়তন্ত্রীর নিঃসৃত পল্লবিত পঙক্তিমালা
ঠিক যেন সুললিত গায়ক পাখির ধ্রুপদি আত্মচেতনা ।
তোমার স্বপ্নচারিতার নিদ্রাহীন কণ্ঠসংগীতে
ধ্বনিত হয় উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে মমত্বিক স্লোগান
পরাধীনতার ঘৃণিত আঁচলে যে মানবশিশু
লিখে রেখেছে প্রেমিকার জন্য সার-সংক্ষেপ
জলের অক্ষরে লেখা তার সে প্রেমপত্র
তার সেভিংস একাউন্টে যে ভালোবাসা জমে আছে
হে কবি বিশ্বাস করো
স্বপ্নের হালখাতায় প্রতিফলিত শব্দতরঙ্গের মতো
জমা আছে কোমল পুষ্পবৃষ্টির গর্ভবতী সফট কপিতে ।
হে গৌড়ের জ্ঞানবরেষু বরেন্দ্রিক কবি
তোমার সাহসী আত্মবোধের পরিচ্ছন্ন শিষ্টাচার
বলে দিয়েছি সভ্যতার প্রণয়ী নদীর কাছে
নীলস্বপ্নের জোয়ারে যে জলচিঠি তুমি লিখেছো
তা পৌঁছে দিয়েছি সোনালি নদী মহানন্দার কাছে
সেই কবে পলাতক হয়েছে কালিদাসের মেঘদূত
হারিয়ে গেছে মৌসুমি কবির আনাগোনা
তোমার বিজয়ী মননের সম্ভাষিত সার্চলাইট
জ্বলতে থাকুক মূল শেকড়ের রাজসিক অনুসূচিতে।
বাংলাবাঁক 










