ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নতুন দিনের কবিতা

গোলাম রববানীর পাঁচটি কবিতা

  • বাংলাবাঁক
  • আপডেট : ০৮:০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৪
  • 324

(১)

স্বরতন্ত্রী কাঁপছে গভীর ষড়যন্ত্রে 

 

কেন যেন পৃথিবীর সব ওজন ভর করেছে বাংলার বুকেই,

কিছুতেই যেন ঠেলেচুরে উঠতে পারছে না কোনও কিছুতেই;

উঠতে গিয়ে আরো বেশি থিতলে

উজ্জ্বলতা হারানোর পথে,

সুরহীনতা বাঁশির সুর তুলে কোন সে এক বেসুরো ঠোঁটে?

ঠোঁট যেন আর ঠোঁট নয়,

যে ঠোঁটে মধুবাক সে ঠোঁটে বিষ,

শোনে মৃত পাখি, নক্ষত্রের রাত, গুলির প্রেমের অভিলাষ!

 

পরাণের মধ্যে ধুকপুক করে যেন শূন্য থেকে পড়ার সমান

রাইফেল বুলেট টিয়ারগ্যাস মুখস্থ করে আর কী হবে?

বাকযন্ত্র থেকে ছেড়ে দিতে হবে

শুধু ধুরন্দর অধিকার!

ভাঙাঘরের চাল উঠিয়ে বসত গড়ার একটুখানি-ই সুখে

সবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন ছিলো বুকে

ভেঙে গেলো শুধু সুখের বসত সেই দম্ভী হাওয়ার চোটে

নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ খেলো ক্ষুদার্ত হায়েনা বেশে!

অস্বস্তি বুকে নিয়ে স্বদেশ, খাতা-কলম-কথা খায় এখানে

 

দেশ হয়তো মুক্তি নিয়েছে সমস্ত সেবার দায় থেকেই

অথচ উন্নয়নের চোখে আজ ওজন মাপছি অন্ধত্বেরই

স্বদেশের মতো শুধু স্বরতন্ত্রী কাঁপছে গভীর ষড়যন্ত্রে!

 

(২)

মিথ্যার রঙে লোকারণ্য সবুজক্ষেত্র

 

বিতিকিচ্ছিরি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে আমার দেশ, স্বদেশ আমার।আইয়ামে জাহিলিয়াতের কালো ছায়া পরিপূর্ণভাবে বিরাজমান। নব্য ভ্যাম্পায়ারের এক আবাদি ভূমি! এখানে ক্ষমতা রক্তের নেশায় মত্ত।মিথ্যার রঙে লোকারণ্য সবুজক্ষেত্র- রক্তে রক্তিম আভায় চুবানো। চারিদিকে হাহাকার আহাজারি আর রোনাজারি!

বুকভরা ক্ষোভ! বুকভরা ঘৃণা! আকাশেরও বুকভরা ক্ষোভ, ঘৃণা! উজ্জ্বল স্বপ্নময় জগৎ ছিন্নভিন্ন; সন্তানহারা আমাদের বাবা মা; স্বজন প্রিয়জন আপনজন।বুকের মধ্যে দীর্ঘশ্বাসের দিনরাত্রি। নষ্টদের অধিকারে সমস্ত খবরাখবরের সংকলন। যেমন দেশ প্রত্যাশা আকাঙ্ক্ষা আমার দেশের মা মাটি ও মানুষের- তেমন দেশটা কোথায় পাব? কে ফিরিয়ে দেবে?  এখানে উচিত কথা বললেই খেই কুকুরের মতো- পাগলা কুত্তার মতো তেড়ে আসে: কামড়াতে কামড়াতে রক্তাক্ত জখম করে দেয়; অস্তিত্বের শিকড়সমেত উপড়ে ফেলে! যেখানেই মনস্তাত্ত্বিক সংকট,

নৈতিকস্খলন, অস্তিত্ব সংকট আরও সংকট সম্মোহনে দেশ কি’বা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে?রণক্ষেত্র ছাড়া!

মানুষ শান্তি চাই, নৈরাজ্য নয়, রক্তপাত নয়, আতঙ্ক নয়,  আগুন নয়, বুলেট কিংবা অগ্নিসংযোগ সন্ত্রাস নয়।মানুষ স্বস্তিতে থাকতে চাই।খবরা-খবর রাখতে চাই।কিন্তু এখানে ভরসা বা খবর রাখতে দেবার মতো কোনও পাত্র নেই। যাঁরা পাত্র তৈরির কারিগর তাঁরা অচিরেই নক্ষত্রের পানে চলে যায়; সিস্টেম করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভাই আমি কার কাছে দুঃখের কথা বলি, কষ্টের কথা বলি: শিয়াল কুকুর হায়েনারডাকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।তবু সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণের প্রতীক্ষায় দিনগুনি।

 

(৩)

বাঙলা আলোআঁধারি যুগে 

 

মানুষ, তুমি কি আজ বন্দি শিবির থেকে মুক্তি পেয়েছ?

ছাড়া কী পেয়েছ বন্দি জেলখানার শিকল থেকে?

পেয়েছ কি পবিত্র ভালোবাসার ছোঁয়া,

আর মুখরিত স্পর্শ!

কয়েদি যেমন চায় অস্থির বাসনায় আলো বাতাসের সংস্পর্শ।

 

তোমাদের স্বাধীনতা চা-কফির কাপ গ্রাম্য মোড়ে মোড়ে

আধুনিক বিজ্ঞান কৃষিতে,লাঙল জোয়াল ফসলের মাঠে

অথবা পথের ধারে ভনভন মাছি উড়া কর্মক্লান্ত পথে

শহরে-নগরে ফুটপাতের অস্থায়ী কোনও দোকানপাটে

কিংবা আকিজ ইনতাজ বিড়ির ধোঁয়া ছাড়া ক্ষণে ক্ষণে

চুলচেরা সব বিশ্লেষণে,

দেশের আদ্যোপান্ত শরীর নিয়ে

অথবা অফিসপাড়ার চেয়ারে; পক্ষে-বিপক্ষে পাণ্ডিত্যে-

নরম বাতাসে ব্রেক লাঞ্চে;

ফলপ্রসূ কী তা অপেক্ষা জানাবে!

 

তোমাদের স্বাধীনতা ওয়েটিং রুমে,

শিক্ষার্থীর পড়ার টেবিলে

কিচেন অথবা গেস্টরুমে; দ্রুততম সড়ক ও পরিবহনে

হোটেল-মোটেলে হাসপাতালের মুমূর্ষুর বেডে বেডে

জল-স্থলে, জাতীয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাগজ ও ঠোঁটেঠোঁটে

শিল্প-সমঝদারদের বন্ধুত্বে; দেখো হাসাবে বিমুক্ত কারাগারে;

মুক্তি ভাসে আজও রক্তস্রোতের গনগনে উজ্জ্বল আগুনে!

পাল্টাপাল্টি বিরুদ্ধ বিরহে,

হিংসা প্রতিহিংসা সেই চিরদিনের-

এখানে অমীমাংসিত দূরভিসন্ধির দর্শন চিরকালের..

মুক্তির আনন্দে দিনরাত্রির অসুখ, অসুখের আনন্দে শোক ও মুখ!

 

(৪)

আগুনের দেশ

 

কেউ আগুন ধরাল আর কেউ আগুনে পুড়াল

আগুনের দেশে আগুন আগুন খেলা যেন বন্ধ হবার না

এ আগুন বড়োই নির্দোষ! বিকৃত মগজেরা হাসলো!

 

ক্ষোভের আগুন, হিংসার আগুন, ঘৃণার আগুন

প্রতিহিংসার আগুন, লোভের আগুন, পাপের আগুন

পরচর্চার আগুন আরো যেন পরনিন্দার আগুন

আরো যেন ছাইচাপা আগুনের গনগনে উজ্জ্বল রণ

এই আগুনে আগুন আগুয়ান হচ্ছে যুবতী মেয়েটি

আর পাড়ার সমস্ত ছেলেগুলো যেন বন্যপ্রাণীর হরিণী

লালসার জিহবাটা কী সুন্দর বের করে লালসার রস ঝরাচ্ছে রতিক্রিয়ার ট্রান্স! কতটুকু পুলকিত হলে বস?

 

আগুনে আগুন খেলো, ফাগুনের লাল অভিশপ্ত হলো

সুপ্ত আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের স্রোতধারাও থেমে গেল

আগুনের গলায় রশি উঠলো- ক্ষমতার আগুন ফুসলো

বাঙলার বুক চুষে চুষে শুধু ধ্বংসযজ্ঞের নিলামে তুললো

 

অনাদিকাল থেকে পথ চলছি, চলছি হাজার বছর ধরে

বুকের ভেতর আগুন রেখে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ আগুনের দেশে

 

 

(৫)

একদফা

 

ওরা বধির,ওরা মিথ্যুক, ওরা সেন্সলেস অথর্ব লোক

ওরা জোঁক, রক্তচোষা জোঁক!

ক্ষমতার প্রতি ওদের সুতীব্র ঝোঁক!

ওরা শিশু, ওরা অন্ধ, যেন খুনখুনে বয়োবৃদ্ধ

ওরা আসক্ত নেশার চেয়ে বড় বিষাক্ত- ওরা সিদ্ধ!

 

ওরা পাথর, ওরা মূর্তি, এক ভিনদেশে ওদের চুক্তি

বিক্ষুব্ধ গণজাগরণ অনল স্ফূলিঙ্গ, মুক্তি..

ওরা খেলে, ওরা খেলায়! ভেঙে পড়ে মায়াকান্নায়

বন্ধুকের গুলি দিয়ে প্রেম, মহাপ্রেম খেলে;

শূন্য হাসায়!

 

ওরা তো চাই রুদ্ধ করতে সব রাস্তা- ওরা নিশাদ

বোঝে না ভাই! জনসমুদ্রের ঢেউয়ের কী আশীর্বাদ!

ন্যায়ের পক্ষে থাকে না যে, সে-তো দালাল,

মাটির ঠাঁই না পাক;

বাঁধভাঙা ঢল, ভাঙবে দেখ ছাত্রসমাজ-

আজ একদফা এক।

 

প্রদীপ আলোয় জ্বলবে সংসার

রাঙিয়ে ঠিক আলোর রাগে..

আবু সাঈদের গোরস্থানে, সেই আনন্দে সালাম করে।

 

 

গোলাম রববানী, কেশবপুর, যশোর

জনপ্রিয় পোস্ট

নতুন দিনের কবিতা

গোলাম রববানীর পাঁচটি কবিতা

আপডেট : ০৮:০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৪

(১)

স্বরতন্ত্রী কাঁপছে গভীর ষড়যন্ত্রে 

 

কেন যেন পৃথিবীর সব ওজন ভর করেছে বাংলার বুকেই,

কিছুতেই যেন ঠেলেচুরে উঠতে পারছে না কোনও কিছুতেই;

উঠতে গিয়ে আরো বেশি থিতলে

উজ্জ্বলতা হারানোর পথে,

সুরহীনতা বাঁশির সুর তুলে কোন সে এক বেসুরো ঠোঁটে?

ঠোঁট যেন আর ঠোঁট নয়,

যে ঠোঁটে মধুবাক সে ঠোঁটে বিষ,

শোনে মৃত পাখি, নক্ষত্রের রাত, গুলির প্রেমের অভিলাষ!

 

পরাণের মধ্যে ধুকপুক করে যেন শূন্য থেকে পড়ার সমান

রাইফেল বুলেট টিয়ারগ্যাস মুখস্থ করে আর কী হবে?

বাকযন্ত্র থেকে ছেড়ে দিতে হবে

শুধু ধুরন্দর অধিকার!

ভাঙাঘরের চাল উঠিয়ে বসত গড়ার একটুখানি-ই সুখে

সবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন ছিলো বুকে

ভেঙে গেলো শুধু সুখের বসত সেই দম্ভী হাওয়ার চোটে

নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ খেলো ক্ষুদার্ত হায়েনা বেশে!

অস্বস্তি বুকে নিয়ে স্বদেশ, খাতা-কলম-কথা খায় এখানে

 

দেশ হয়তো মুক্তি নিয়েছে সমস্ত সেবার দায় থেকেই

অথচ উন্নয়নের চোখে আজ ওজন মাপছি অন্ধত্বেরই

স্বদেশের মতো শুধু স্বরতন্ত্রী কাঁপছে গভীর ষড়যন্ত্রে!

 

(২)

মিথ্যার রঙে লোকারণ্য সবুজক্ষেত্র

 

বিতিকিচ্ছিরি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে আমার দেশ, স্বদেশ আমার।আইয়ামে জাহিলিয়াতের কালো ছায়া পরিপূর্ণভাবে বিরাজমান। নব্য ভ্যাম্পায়ারের এক আবাদি ভূমি! এখানে ক্ষমতা রক্তের নেশায় মত্ত।মিথ্যার রঙে লোকারণ্য সবুজক্ষেত্র- রক্তে রক্তিম আভায় চুবানো। চারিদিকে হাহাকার আহাজারি আর রোনাজারি!

বুকভরা ক্ষোভ! বুকভরা ঘৃণা! আকাশেরও বুকভরা ক্ষোভ, ঘৃণা! উজ্জ্বল স্বপ্নময় জগৎ ছিন্নভিন্ন; সন্তানহারা আমাদের বাবা মা; স্বজন প্রিয়জন আপনজন।বুকের মধ্যে দীর্ঘশ্বাসের দিনরাত্রি। নষ্টদের অধিকারে সমস্ত খবরাখবরের সংকলন। যেমন দেশ প্রত্যাশা আকাঙ্ক্ষা আমার দেশের মা মাটি ও মানুষের- তেমন দেশটা কোথায় পাব? কে ফিরিয়ে দেবে?  এখানে উচিত কথা বললেই খেই কুকুরের মতো- পাগলা কুত্তার মতো তেড়ে আসে: কামড়াতে কামড়াতে রক্তাক্ত জখম করে দেয়; অস্তিত্বের শিকড়সমেত উপড়ে ফেলে! যেখানেই মনস্তাত্ত্বিক সংকট,

নৈতিকস্খলন, অস্তিত্ব সংকট আরও সংকট সম্মোহনে দেশ কি’বা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে?রণক্ষেত্র ছাড়া!

মানুষ শান্তি চাই, নৈরাজ্য নয়, রক্তপাত নয়, আতঙ্ক নয়,  আগুন নয়, বুলেট কিংবা অগ্নিসংযোগ সন্ত্রাস নয়।মানুষ স্বস্তিতে থাকতে চাই।খবরা-খবর রাখতে চাই।কিন্তু এখানে ভরসা বা খবর রাখতে দেবার মতো কোনও পাত্র নেই। যাঁরা পাত্র তৈরির কারিগর তাঁরা অচিরেই নক্ষত্রের পানে চলে যায়; সিস্টেম করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভাই আমি কার কাছে দুঃখের কথা বলি, কষ্টের কথা বলি: শিয়াল কুকুর হায়েনারডাকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।তবু সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণের প্রতীক্ষায় দিনগুনি।

 

(৩)

বাঙলা আলোআঁধারি যুগে 

 

মানুষ, তুমি কি আজ বন্দি শিবির থেকে মুক্তি পেয়েছ?

ছাড়া কী পেয়েছ বন্দি জেলখানার শিকল থেকে?

পেয়েছ কি পবিত্র ভালোবাসার ছোঁয়া,

আর মুখরিত স্পর্শ!

কয়েদি যেমন চায় অস্থির বাসনায় আলো বাতাসের সংস্পর্শ।

 

তোমাদের স্বাধীনতা চা-কফির কাপ গ্রাম্য মোড়ে মোড়ে

আধুনিক বিজ্ঞান কৃষিতে,লাঙল জোয়াল ফসলের মাঠে

অথবা পথের ধারে ভনভন মাছি উড়া কর্মক্লান্ত পথে

শহরে-নগরে ফুটপাতের অস্থায়ী কোনও দোকানপাটে

কিংবা আকিজ ইনতাজ বিড়ির ধোঁয়া ছাড়া ক্ষণে ক্ষণে

চুলচেরা সব বিশ্লেষণে,

দেশের আদ্যোপান্ত শরীর নিয়ে

অথবা অফিসপাড়ার চেয়ারে; পক্ষে-বিপক্ষে পাণ্ডিত্যে-

নরম বাতাসে ব্রেক লাঞ্চে;

ফলপ্রসূ কী তা অপেক্ষা জানাবে!

 

তোমাদের স্বাধীনতা ওয়েটিং রুমে,

শিক্ষার্থীর পড়ার টেবিলে

কিচেন অথবা গেস্টরুমে; দ্রুততম সড়ক ও পরিবহনে

হোটেল-মোটেলে হাসপাতালের মুমূর্ষুর বেডে বেডে

জল-স্থলে, জাতীয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাগজ ও ঠোঁটেঠোঁটে

শিল্প-সমঝদারদের বন্ধুত্বে; দেখো হাসাবে বিমুক্ত কারাগারে;

মুক্তি ভাসে আজও রক্তস্রোতের গনগনে উজ্জ্বল আগুনে!

পাল্টাপাল্টি বিরুদ্ধ বিরহে,

হিংসা প্রতিহিংসা সেই চিরদিনের-

এখানে অমীমাংসিত দূরভিসন্ধির দর্শন চিরকালের..

মুক্তির আনন্দে দিনরাত্রির অসুখ, অসুখের আনন্দে শোক ও মুখ!

 

(৪)

আগুনের দেশ

 

কেউ আগুন ধরাল আর কেউ আগুনে পুড়াল

আগুনের দেশে আগুন আগুন খেলা যেন বন্ধ হবার না

এ আগুন বড়োই নির্দোষ! বিকৃত মগজেরা হাসলো!

 

ক্ষোভের আগুন, হিংসার আগুন, ঘৃণার আগুন

প্রতিহিংসার আগুন, লোভের আগুন, পাপের আগুন

পরচর্চার আগুন আরো যেন পরনিন্দার আগুন

আরো যেন ছাইচাপা আগুনের গনগনে উজ্জ্বল রণ

এই আগুনে আগুন আগুয়ান হচ্ছে যুবতী মেয়েটি

আর পাড়ার সমস্ত ছেলেগুলো যেন বন্যপ্রাণীর হরিণী

লালসার জিহবাটা কী সুন্দর বের করে লালসার রস ঝরাচ্ছে রতিক্রিয়ার ট্রান্স! কতটুকু পুলকিত হলে বস?

 

আগুনে আগুন খেলো, ফাগুনের লাল অভিশপ্ত হলো

সুপ্ত আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের স্রোতধারাও থেমে গেল

আগুনের গলায় রশি উঠলো- ক্ষমতার আগুন ফুসলো

বাঙলার বুক চুষে চুষে শুধু ধ্বংসযজ্ঞের নিলামে তুললো

 

অনাদিকাল থেকে পথ চলছি, চলছি হাজার বছর ধরে

বুকের ভেতর আগুন রেখে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ আগুনের দেশে

 

 

(৫)

একদফা

 

ওরা বধির,ওরা মিথ্যুক, ওরা সেন্সলেস অথর্ব লোক

ওরা জোঁক, রক্তচোষা জোঁক!

ক্ষমতার প্রতি ওদের সুতীব্র ঝোঁক!

ওরা শিশু, ওরা অন্ধ, যেন খুনখুনে বয়োবৃদ্ধ

ওরা আসক্ত নেশার চেয়ে বড় বিষাক্ত- ওরা সিদ্ধ!

 

ওরা পাথর, ওরা মূর্তি, এক ভিনদেশে ওদের চুক্তি

বিক্ষুব্ধ গণজাগরণ অনল স্ফূলিঙ্গ, মুক্তি..

ওরা খেলে, ওরা খেলায়! ভেঙে পড়ে মায়াকান্নায়

বন্ধুকের গুলি দিয়ে প্রেম, মহাপ্রেম খেলে;

শূন্য হাসায়!

 

ওরা তো চাই রুদ্ধ করতে সব রাস্তা- ওরা নিশাদ

বোঝে না ভাই! জনসমুদ্রের ঢেউয়ের কী আশীর্বাদ!

ন্যায়ের পক্ষে থাকে না যে, সে-তো দালাল,

মাটির ঠাঁই না পাক;

বাঁধভাঙা ঢল, ভাঙবে দেখ ছাত্রসমাজ-

আজ একদফা এক।

 

প্রদীপ আলোয় জ্বলবে সংসার

রাঙিয়ে ঠিক আলোর রাগে..

আবু সাঈদের গোরস্থানে, সেই আনন্দে সালাম করে।

 

 

গোলাম রববানী, কেশবপুর, যশোর