খাণ্ডব পোড়ানো-আঁচ
দেবব্রত রায়
যারা একটা লাশের সামনে দাঁড়িয়ে হিসেব কষে, ক-বার ঠোঁট নাড়লে মাড়িসহ চেয়ারটাই নড়ে যেতে পারে কিংবা, ক-টা বডি পড়লে ব্যালটপেপারের পা কাঁপবে
তারা মানুষের বদলে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং নাড়ি ছেড়ার দাঁত ও নখ খোঁজে
যে পুকুরে জল ঢোকা এবং বেরনোর ঢেকুরটুকু ওঠে না , যে মাটিতে নিঃশ্বাস নেবার বাতাস বয় না, সে দেশে হিন্দু মুসলমান… নয় আসলে, বিপদে আছেন প্রত্যেকটা মানুষ
গাল থেকে গলার নলি সুড়-সুড়ি দেওয়ার প্রশ্রয় পেলে একটা ক্ষুর যে-কোনো মুহূর্তে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে উঠতে পারে
দশ-সেলের টর্চের বদলে পকেটে কয়েক-টুকরো বৈদুর্যমণি নিয়ে বেরিয়েছি
অথচ রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর, নদী-সমুদ্র এমনকি, দু-একটা মানুষও নজরে পড়ছে না
প্লটের পর প্লট দখল নিয়েছে বড় মেজ সেজ… কুয়াশার রেপসিড-তেল জমানো-হুমকি
আজকাল ছাতির পাঁজর আর শিরদাঁড়া ঠুকে সর্ষে তেলের গোঁফতুতো হতেও, জামার আস্তিনে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারব্রিগেডের নম্বর লিখে রাখতে হয়
কারণ সর্ষের ভিতরেও শেয়ালকাঁটার একটা হাও মাও খাও ঢুকে পড়েছে
যাদের স্কুল-সিলেবাসে বোশেখ-জ্যোষ্ঠের খাঁ খাঁ দুপুর থাকে না, তারা কুয়াশার লাস্ট মিনিট-সাজেশন-বগলে পরীক্ষায় বসে
আর
পদ্মার চরায় যে বাউল-নৌকাটি থমকে আছে তার দাঁড় এবং হালে গঙ্গা, সিন্ধু-র খাণ্ডব পোড়ানো-আঁচ ক্রমশ ফুঁসে উঠছে
বাংলাবাঁক 










