ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পোস্টমডার্ন কবিতা

মুরারি সিংহের পাঁচটি কবিতা

  • বাংলাবাঁক
  • আপডেট : ০৯:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪
  • 150

পল্লীগাথা


ইচ্ছে-রানির সাইকেলে চড়ে একবার ঘুরে আসতে পারো
এই-যে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা
বেঁচে থাকাটি
তারই বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলে
দেখে আসতে পারো, তার রং-চটা পাজামার
আর্ত চিৎকার
তার বেভুল ব্যাক-পাশের বেহুঁশ মাতলামি
ভাঙা শব্দ, ভাঙা ভাষা, ডানা ঝাপটিয়ে
উড়ে যাওয়া কাক
অদ্ভূত সাবানগন্ধ, উড়ু-উড়ু পর্দার অন্দরমহল
অদ্ভূত মায়াবি এই বালুচর, এখানে
ওড়নার প্রতিধ্বনি দিয়ে পালিত হয় চৈত্রমাস
মরূদ্যানে দৃশ্য আঁকে অন্য বাউল
একলা শিমুলের ওই বৃষ্টিভেজা ডাক
ওসব গুজব-কথা এখন না বললেও চলবে
বরং বহু দূরে যে-সব শকুন্তলা
বেমালুম ভেসে যায়
সজনেগাছের ছায়ার ভিতর
তাদের নিয়ে ভাবো
ঘরেফেরা পাখিরা ঠোঁটে করে নিয়ে আসে
কিছু আলো, কিছু আনন্দ
এবং কিছু নৌকাভ্রমণের মানচিত্র,
মনস্তাপ আঁকা
সাদাপাতায় লীন হয়ে থাকা এই-সব হ্যানো-ত্যানো
ভাবতে ভাবতে বোকা বনে যাও
এবং ভাবো—
জল-কাদা ঘেঁটে ঘেঁটে বেড়ে উঠছে

হরতন-চিড়িতনের কত-সব পল্লীগাথা

পুষা-নক্ষত্রের পতাকা


তাহলে তালশাঁসের মধ্যে তাকে পাওয়া গেল
কিন্তু কাঁঠাল পাকার মধ্যে পাওয়া গেল না
অথবা কাঁঠাল পাকার মধ্যে তাঁর শ্রীপদের চিহ্ন থাকলেও
দেখা গেল ভাঙা মাস্তুলের গোপন ডায়েরিতে শুধুই
আলোনা মেঘ ও রোদের কথা
তুমি তো আলুপোস্ত খাওয়া মানুষ, তুমি আর কী করে
জানবে জ্যামিতি-বক্সের ঝাঁপ খুললে যে সব উড়ো-খই
বেরিয়ে আসে তাদের নখের আঁচড়ে লেগে থাকে
লাক্স-সাবান ও সেজুঁতি ব্রতের গল্প
তুমি কি খবর রাখো, তোমার ঘরে লাগানো যে জলের পাইপ
তা বিশ্রীভাবে ফেটে গেছে
এবং সেই কারণে জবাফুলের দৃষ্টিশক্তি এখন
নিরামিষ-ভোজনের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে
এখন তুমি যদি বুঝতে চাও কলমিলতার পাশ দিয়ে
কতখানি বয়ে গেছে কবি ও কবিতার ট্রামরুট,
তাহলে এইবেলা তোমার হাতের কলমটিকে ঢেকে দাও
কুলীন ব্রহ্মদত্যির জলপিপাসা দিয়ে
তারপর বাজারে ফর্দতে তেল-সিঁদুর লাগিয়ে
নারী অথবা পুরুষ সেজে ঘুমিয়ে পড়ো
নদী পাহাড় ও উপত্যকার শ্বাস-প্রশ্বাসে
তোমার নিখোঁজ হাতে ধরা থাক

পুষা-নক্ষত্রের পতাকা


বাঁ-হাতি বোলার


বড়ো দীর্ঘ এই ধুলো ধোঁয়া এবং চেঙ্গিস খান
তোমার আমার মধ্যেকার অদৃশ্য চৌকাঠে
লাল টিশার্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে রাতপাখিদের হলফনামা
বিকেলের ভাজা-বাদামের পিঠে আসীন বিস্তর চন্দ্রবিন্দু
পায়রাদের মুখপত্রের পাতায় আমার উপস্থিতি এতটাই নগন্য যে
আমি ঘোলা মানিব্যাগ কিংবা কালো ক্যারিব্যাগে মোড়া উদার গণতন্ত্র
নিয়ে বেশি কথা বলতে পারি না
কুকুরের গলার বকলেশ দিয়ে
আমার জিভ বাঁধা হয়েছে
এই সব মিথ্যা ও আশ্চর্যের সাক্ষী আমার বাজে-পোড়া কড়িকাঠ
হাঁটুর ভিতর মুখ গুঁজে আমি কিঞ্চিত হলুদ হয়ে আছি
তোমার দু-গালে আধপাকা রোদ আমাকে আশাবাদী করে
আজকের দিনের কাছ থেকে আমি আরও কিছু বিশ্বাস ধার নিই
ভিকটোরিয়ার পার্কে বসে ঘাস ছিঁড়তে ছিঁড়তে
তুমি আমাকে আগাগোড়া খুলে ফেলেছ
হাজার চেষ্টা করেও

আমি তোমার বাঁহাতি বোলার হতে পারি না


আঙুরফল টক


আঙুর ফলের নাগাল পাই আর না পাই
চ্যাঙা হাত বাড়িয়ে দিই
সারাক্ষণ খুশি ও আনন্দে থাকি
কখনও বলি না, আঙুরফল টক
আপেল কমলালেবু নাসপাতি
তারা তো আঙুরেই সোদর-ভাই
বাদুড়ে-চোষা তাল পাকাও তাই
দশকর্মা ভাণ্ডার থেকে সাজিমাটি কিনে এনে
টুনি-বোষ্টমি নাক-কপাল-বাহুতে রসকলি আঁকে
রোদে-পোড়া জন্মভূমির হা-ডু-ডু থেকে
এ-সব কথা জানতে জানতে
আমরা পান্তোভাতের সঙ্গে মুড়ি মেখে খাই
নুডলসের সঙ্গে মিশিয়ে নিই কুচো কুচো গাজর-ক্যাপসিকাম
ধ্রুপদি সংগীতের আসরে রাত ভোর হয়
আমি কোদাল দিয়ে বাবুর বাগানের মাটি কোপাই
নতুন করে ঢ্যাঁঢ়স চাষ করি

জিরো ভাষায় লেখা কবিতা


জিরো-জ্ঞান দিয়ে তৈরি ঘরে
জিরো-পাওয়ারের নাইটল্যাম্প জ্বেলে
জিরো-ফিগার হয়ে অপেক্ষা করছি
জিরো-আওয়ারের জন্য
অগত্যা এই জিরো পিপাসা এবং জিরো টলারেন্সকে এখন
হাঙরের হাঁচি কচ্ছপের কাশি অথবা
গোসাপের গা-গসগস মতো মনে হতে পারে
তবে দলমার দামালেরা যখন দলবেঁধে চলেছে দলমাদলের কাছে
আমি গ্রাউন্ড-জিরো থেকে একটু পিছিয়ে গিয়ে
জমকালো বাগালছানাদের সঙ্গে এক রাউন্ড-টেবিল বৈঠকে
জিরে-ফোড়ন দিয়ে সাঁতলে নিচ্ছি আমার জিরো-চেতনা
আশা করি এই জিরো-পালসের উৎসবে এবার শ্রীভগবান
বানপ্রস্থ থেকে জিরো-নাচ শিখে ফিরে এসে
ভাগচাষির গায়ে-হলুদ অনুষ্ঠনে উপহার দিবেন
জিরো-ডিগ্রির সিংহাসনে উপবিষ্ট
একটা মস্ত শীতকাল
এবং আমার জিভ থেকেও তখন ভূমিষ্ট হবে
জিরো-দ্রাঘিমায় অবস্থিত
কিছু ভুলভাল আঁজিরপাতা
জনপ্রিয় পোস্ট

পোস্টমডার্ন কবিতা

মুরারি সিংহের পাঁচটি কবিতা

আপডেট : ০৯:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪

পল্লীগাথা


ইচ্ছে-রানির সাইকেলে চড়ে একবার ঘুরে আসতে পারো
এই-যে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা
বেঁচে থাকাটি
তারই বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলে
দেখে আসতে পারো, তার রং-চটা পাজামার
আর্ত চিৎকার
তার বেভুল ব্যাক-পাশের বেহুঁশ মাতলামি
ভাঙা শব্দ, ভাঙা ভাষা, ডানা ঝাপটিয়ে
উড়ে যাওয়া কাক
অদ্ভূত সাবানগন্ধ, উড়ু-উড়ু পর্দার অন্দরমহল
অদ্ভূত মায়াবি এই বালুচর, এখানে
ওড়নার প্রতিধ্বনি দিয়ে পালিত হয় চৈত্রমাস
মরূদ্যানে দৃশ্য আঁকে অন্য বাউল
একলা শিমুলের ওই বৃষ্টিভেজা ডাক
ওসব গুজব-কথা এখন না বললেও চলবে
বরং বহু দূরে যে-সব শকুন্তলা
বেমালুম ভেসে যায়
সজনেগাছের ছায়ার ভিতর
তাদের নিয়ে ভাবো
ঘরেফেরা পাখিরা ঠোঁটে করে নিয়ে আসে
কিছু আলো, কিছু আনন্দ
এবং কিছু নৌকাভ্রমণের মানচিত্র,
মনস্তাপ আঁকা
সাদাপাতায় লীন হয়ে থাকা এই-সব হ্যানো-ত্যানো
ভাবতে ভাবতে বোকা বনে যাও
এবং ভাবো—
জল-কাদা ঘেঁটে ঘেঁটে বেড়ে উঠছে

হরতন-চিড়িতনের কত-সব পল্লীগাথা

পুষা-নক্ষত্রের পতাকা


তাহলে তালশাঁসের মধ্যে তাকে পাওয়া গেল
কিন্তু কাঁঠাল পাকার মধ্যে পাওয়া গেল না
অথবা কাঁঠাল পাকার মধ্যে তাঁর শ্রীপদের চিহ্ন থাকলেও
দেখা গেল ভাঙা মাস্তুলের গোপন ডায়েরিতে শুধুই
আলোনা মেঘ ও রোদের কথা
তুমি তো আলুপোস্ত খাওয়া মানুষ, তুমি আর কী করে
জানবে জ্যামিতি-বক্সের ঝাঁপ খুললে যে সব উড়ো-খই
বেরিয়ে আসে তাদের নখের আঁচড়ে লেগে থাকে
লাক্স-সাবান ও সেজুঁতি ব্রতের গল্প
তুমি কি খবর রাখো, তোমার ঘরে লাগানো যে জলের পাইপ
তা বিশ্রীভাবে ফেটে গেছে
এবং সেই কারণে জবাফুলের দৃষ্টিশক্তি এখন
নিরামিষ-ভোজনের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে
এখন তুমি যদি বুঝতে চাও কলমিলতার পাশ দিয়ে
কতখানি বয়ে গেছে কবি ও কবিতার ট্রামরুট,
তাহলে এইবেলা তোমার হাতের কলমটিকে ঢেকে দাও
কুলীন ব্রহ্মদত্যির জলপিপাসা দিয়ে
তারপর বাজারে ফর্দতে তেল-সিঁদুর লাগিয়ে
নারী অথবা পুরুষ সেজে ঘুমিয়ে পড়ো
নদী পাহাড় ও উপত্যকার শ্বাস-প্রশ্বাসে
তোমার নিখোঁজ হাতে ধরা থাক

পুষা-নক্ষত্রের পতাকা


বাঁ-হাতি বোলার


বড়ো দীর্ঘ এই ধুলো ধোঁয়া এবং চেঙ্গিস খান
তোমার আমার মধ্যেকার অদৃশ্য চৌকাঠে
লাল টিশার্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে রাতপাখিদের হলফনামা
বিকেলের ভাজা-বাদামের পিঠে আসীন বিস্তর চন্দ্রবিন্দু
পায়রাদের মুখপত্রের পাতায় আমার উপস্থিতি এতটাই নগন্য যে
আমি ঘোলা মানিব্যাগ কিংবা কালো ক্যারিব্যাগে মোড়া উদার গণতন্ত্র
নিয়ে বেশি কথা বলতে পারি না
কুকুরের গলার বকলেশ দিয়ে
আমার জিভ বাঁধা হয়েছে
এই সব মিথ্যা ও আশ্চর্যের সাক্ষী আমার বাজে-পোড়া কড়িকাঠ
হাঁটুর ভিতর মুখ গুঁজে আমি কিঞ্চিত হলুদ হয়ে আছি
তোমার দু-গালে আধপাকা রোদ আমাকে আশাবাদী করে
আজকের দিনের কাছ থেকে আমি আরও কিছু বিশ্বাস ধার নিই
ভিকটোরিয়ার পার্কে বসে ঘাস ছিঁড়তে ছিঁড়তে
তুমি আমাকে আগাগোড়া খুলে ফেলেছ
হাজার চেষ্টা করেও

আমি তোমার বাঁহাতি বোলার হতে পারি না


আঙুরফল টক


আঙুর ফলের নাগাল পাই আর না পাই
চ্যাঙা হাত বাড়িয়ে দিই
সারাক্ষণ খুশি ও আনন্দে থাকি
কখনও বলি না, আঙুরফল টক
আপেল কমলালেবু নাসপাতি
তারা তো আঙুরেই সোদর-ভাই
বাদুড়ে-চোষা তাল পাকাও তাই
দশকর্মা ভাণ্ডার থেকে সাজিমাটি কিনে এনে
টুনি-বোষ্টমি নাক-কপাল-বাহুতে রসকলি আঁকে
রোদে-পোড়া জন্মভূমির হা-ডু-ডু থেকে
এ-সব কথা জানতে জানতে
আমরা পান্তোভাতের সঙ্গে মুড়ি মেখে খাই
নুডলসের সঙ্গে মিশিয়ে নিই কুচো কুচো গাজর-ক্যাপসিকাম
ধ্রুপদি সংগীতের আসরে রাত ভোর হয়
আমি কোদাল দিয়ে বাবুর বাগানের মাটি কোপাই
নতুন করে ঢ্যাঁঢ়স চাষ করি

জিরো ভাষায় লেখা কবিতা


জিরো-জ্ঞান দিয়ে তৈরি ঘরে
জিরো-পাওয়ারের নাইটল্যাম্প জ্বেলে
জিরো-ফিগার হয়ে অপেক্ষা করছি
জিরো-আওয়ারের জন্য
অগত্যা এই জিরো পিপাসা এবং জিরো টলারেন্সকে এখন
হাঙরের হাঁচি কচ্ছপের কাশি অথবা
গোসাপের গা-গসগস মতো মনে হতে পারে
তবে দলমার দামালেরা যখন দলবেঁধে চলেছে দলমাদলের কাছে
আমি গ্রাউন্ড-জিরো থেকে একটু পিছিয়ে গিয়ে
জমকালো বাগালছানাদের সঙ্গে এক রাউন্ড-টেবিল বৈঠকে
জিরে-ফোড়ন দিয়ে সাঁতলে নিচ্ছি আমার জিরো-চেতনা
আশা করি এই জিরো-পালসের উৎসবে এবার শ্রীভগবান
বানপ্রস্থ থেকে জিরো-নাচ শিখে ফিরে এসে
ভাগচাষির গায়ে-হলুদ অনুষ্ঠনে উপহার দিবেন
জিরো-ডিগ্রির সিংহাসনে উপবিষ্ট
একটা মস্ত শীতকাল
এবং আমার জিভ থেকেও তখন ভূমিষ্ট হবে
জিরো-দ্রাঘিমায় অবস্থিত
কিছু ভুলভাল আঁজিরপাতা