বারুদফুল
শিশির ভেজা চির হরিতে
ওৎপেতে বসে স্বৈরশকুন…
বায়ান্ন ঊনসত্তর একাত্তর ফিরে
চব্বিশের বসন্তে
দাহনস্রোতে মুমুর্ষ ঢেউ বয়ে চলে
মানচিত্র নদী
ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে
রক্তের আখ্যান
চোখভরতি বিবেকী কান্না আর
অজস্র হাহাকার, ঘৃণা
ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে তারুণ্য
মুঠোয় জনযুদ্ধের দামামা
শপথের জাগরণে জেগেছি
জেগেছে অজস্র প্রেমিক কবি
উঁচু করে মশালের দশহাত
কাঁধে তুলে নিয়েছে ভার
বঞ্চিতের অধিকার ফেরাবার
ফোটেছে কত বারুদফুল আগুনের
গ্রাফিতি দেয়ালে দেয়ালে
চেতনার অজস্র পা সমবেত—
আবার এসেছে বায়ান্ন
আবার এসেছে ঊনসত্তর
একাত্তর ফিরে এসেছে জুলাইয়ের রাজপথে…
ইতর খাদক
কে তুমি প্রেমহীন, জ্যোৎস্নাভুক রাত্রির খদ্দের
আক্রোশে ক্রোধোন্মত্ত, কোন সে স্থিতপ্রজ্ঞ?
ভেঙে দিতে চাও অনিবার্য স্বাপ্নিক হাত
বিদঘুটে, একরোখা, কোথাকার ইতর খাদক
আরণ্যক অধিকার কিংবা মাটির ন্যায্যতা
গিলে খেতে চাও শকুনরূপে!
সূর্যোদয়ের পথে হয়ে ওঠো সুরহিংস্র বীণা
ছিনালি ঠোঁটে তবুও দম্ভ প্রগাঢ় খুব!
প্রহসনের নীলচে বিগারে পুড়ছে প্রেমিক হৃদয়…।
চোখভাঙে আয়নাঘরে
মেধাশহীদের রক্তে আঁকা
ক্যানভাস
রক্তলাল হয়ে আছে
শ্রাবণের উপত্যকা
বাতাসভেজা আগুনের জলে
চেতনার বিষাদ
ক্রমশ জড়ো হচ্ছে
মানচিত্রসড়কে
ফ্যাসিবাদ লীলায়
থুবড়ে পড়ে
আগুনমন্থন ঠোঁট
ভেস্তে গেছে কাজরি সন্ধ্যা
বনেদি বুকজুড়ে
রক্তের শোক
ঋণের অশ্রুপাতে পাখিরা
তড়পায়
চিৎকার ফাটিয়ে গায়
হতশ্বাসের গান
সতীর্থের সংরাগী-মুখ
চোখভাঙে
বিভৎস আয়নাঘরে…।
বাংলাবাঁক 










